ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষ সদস্য, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো উন্নয়ন হয়নি। ঠাকুরগাঁওয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ বিএনপি নিজেদের দাবি করে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ বিএনপি নেতারা দাবি করছে ঠাকুরগাঁওয়ে উন্নয়নের জোয়ার বসছে! বাস্তব সত্য হচ্ছে জনগণের জন্য বিএনপি সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ভুল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের খলিশা কুড়ি এলাকায় নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি উপস্থিত ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের কাছে প্রশ্ন করেন, আপনার কী কোনো উন্নয়ন দেখছেন?- জবাবে জনগণ বলেন ‘না’।
এসময় তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর যেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ হয়নি, কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনুমোদন করে গেলেও বিএনপি সরকার ক্রেডিট নিতে ব্যস্ত কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য আজ পর্যন্ত বিএনপি ভূমি অধিগ্রহণ কিংবা ভবন নির্মাণ ও শিক্ষার্থী ভতিও করতে পারেনি। তারা কেবলমাত্র একজন ভিসি নিয়োগ দিয়েছেন তা-ও নিজেদের ঘরের লোককে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগেও চলছে ‘নিয়োগ বাণিজ্য’। দলীয় লোকজনের বাইরে একজন পিয়নও বিএনপি নিয়োগ দেয়নি, দেবে না।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে যেই কয়েকটি রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে সেগুলো অনুমোদন ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। কিন্তু সংস্কার কাজ শুরু হয়ে শেষ করার আগেই কেন কাজ বন্ধ হয়ে গেল প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কারণ বরাদ্দের টাকা দলীয় নেতাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে গেছে। বিএনপি নেতাদের মুখে একটাই কথা ১৭ বছর না খেয়ে ছিলাম! আগের ১৭ বছর আওয়ামী লীগ খেয়েছে এখন বিএনপি খাওয়া শুরু করেছে। তাদের দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ আর দলীয়করণের কারণে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল, সার দিতে পারছে না। আবার জনগণ তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ কিংবা সারের দাবি জানালে বিএনপির গুলি করে মানুষকে হত্যা করার ইতিহাসও আছে।
কৃষক কেন সার পাচ্ছে না উল্লেখ করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “দলীয়করণের পর টাকার বিনিময়ে সারের ডিলার নিয়োগ দিচ্ছে বিএনপি সরকার”। সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে সরকার দলীয় এমপিদের আত্মীয়-স্বজনকে। কোথাও কোথাও এমপির স্ত্রী, ছেলে, ভাই এবং পুত্রবূধে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই দলীয়করণ ও দুর্নীতির কারণে দেশে সারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কৃষক সার পাচ্ছে না, কৃষি উৎপাদনে ধস নেমে আসতে শুরু করেছে। এই ভয়াবহতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি দলীয় এমপি নির্বাচিত হলে সামনে আলু চাষের মৌসুমে কৃষকেরা সার পাবে না। সারের সংকট আরো তীব্র হবে। তারা দলীয় লোকজনে সার ভাগ-বাটোয়ারা করে পাচার করবে।
কৃষক পরিবারকে বাঁচাতে হলে দাঁড়িপাল্লা মার্কার বিজয়ের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা মার্কা বিজয়ী হলে কৃষক সার, বীজ ও কীটনাশক ন্যায্যামূল্যে পাবে। কোথাও সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, আত্মীকরণ, স্বজনপ্রীতি হবে না। কৃষকের মুখে হাসি ফুটাতে এবং কৃষক পরিবারের দুর্ভোগ নিরসনে দরিদ্র কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক প্রদান করা হবে। রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ জনগণের সামনে তুলে ধরে জনগণের মাঝে সমানভাবে বন্টন করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণ চলবে না প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি স্থানীয়দের আগামী ২৯ অক্টোবর দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণের বিজয় বুঝে নেওয়ার আহ্বান জানান।
দেবীপুর ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং ভুল্লী উপজেলা তারবিয়ত সেক্রেটারি মাওলানা আজগর আলী’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খলিলুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিসের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম। এসময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঠাকুরগাঁও জেলা সেক্রেটারি ইসমাইল বিন হায়দারসহ স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (০)