• সমগ্র বাংলা

লালমনিরহাটে গাছের সাথে শত্রুতা, পেরেক ঢুকে বিজ্ঞাপন

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বুড়িমারী মহাসড়কে রয়েছে বিভিন্ন বনজ ফলদ ও ঔষুধি গাছ। সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি প্রাচীন এসব গাছ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করছে। কিন্তু বর্তমানে কিছু অসচেতন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন গাছে পেরেক ঠুকে ফেস্টুন,ব্যানার,পোস্টারসহ নানা রকম বিজ্ঞাপন লাগিয়েছে । বিশেষ করে সড়কের পাশের গাছগুলো এক শ্রেণির মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত বিজ্ঞাপনদাতাদের নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে। গাছে গাছে পেরেক ঠুকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড,ফেস্টুন ও ব্যানার লাগানোর ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। ফলে সড়কের পাশের গাছগুলো পড়েছে হুমকির মুখে।
বৃক্ষপ্রেমীরা বলছেন, গাছে পেরেক মারা নিষ্ঠুরতার শামিল। গাছ অক্সিজেন সরবরাহ করে। গাছে পেরেক ঠুকলে তা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং ধীরে ধীরে গাছ মারা যায়। এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই গাছে পেরেক ঠোকা বন্ধ করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। গাছে পেরেক বা ধাতব বস্তু পোতা বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৬ অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার জন্য ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
গাছেরও প্রাণ আছে, এটা আমরা কেউ অনুভব করছি না। শহরের অধিকাংশ গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন টাঙানোয় সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া দরকার। যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন লাগাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
পেরেক গাছের পরিচালন টিস্যু নষ্ট করে। ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটায়। এবং খাদ্য ও পানি শোষণ ব্যাহত করে গাছটিকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলে।গাছে পেরেক মারলে সেখানে মরিচার সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া ঢুকে গাছের নানা অসুখ তৈরি করে। গাছের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়, ঝড়-বৃষ্টিতে সহজেই গাছ ভেঙে যায়। বন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান,গাছে পেরেক ঠোকা বন্ধের জন্য বন বিভাগ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এব্যাপারে মাইকিং সহ লিফলেট বিতরণ ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। গাছ বাঁচিয়ে পরিবেশ রক্ষার্থে এসব গাছ থেকে বিজ্ঞাপনের প্রচার নামানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য (০)





  • company_logo