• সমগ্র বাংলা

রাণীনগরের পাখি পল্লী ও মৎস্য অভয়াশ্রমের মাছ রক্ষার্থে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরের একমাত্র পর্যটন এলাকা পাখি পল্লীতে স্থাপন করা হয়েছে সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে চালিত উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি ক্যামেরা)। পাখি পল্লীতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোর ও র্দুবৃত্তদের হাত থেকে রক্তদহ বিলের রতনডারাখালের হাতিরপুল এলাকার মৎস্য অভয়াশ্রমের মাছ রক্ষা, পাখি পল্লীর বিভিন্ন উপকরণ রক্ষা করা, ও একটি নির্ভরযোগ্য সুন্দর পরিবেশ বিনির্মাণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার পরিকল্পনায় ব্যতিক্রমী এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। পাখি পল্লীর নিরাপত্তা জোরদার করাসহ মৎস্য অভয়াশ্রমে দেশীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এই সিসিটিভি ক্যামেরা। এই আধুনিক ব্যবস্থার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা অফিসে বা বাসায় বসে ২৪ ঘণ্টা এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করছেন মোবাইলের মাধ্যমে। এতে করে এলাকাটি পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছে। পর্যটন এলাকার মান উন্নয়নে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করায় উপজেলা প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছে সর্বমহলের মানুষ।  

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ কুমার দেবনাথ জানান যেখানে মাছ থাকবে সেখানে পাখিও থাকবে তাই রক্তদহ বিলের আউটলেট রতনডারা খালকে মৎস্য অভয়াশ্রম করা হয়েছে। যেখানে কেউ মাছ ধরতে পারবে না, মাছ নির্ভয়ে আশ্রয় নিবে। সারা বছর পানি থাকে এমন উন্মুক্ত জলাশয়ে সাধারণত মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে যখন বিল-ঝিল, নদী-নালা ও খাল-বিল সব শুকিয়ে যায় তখন প্রাকৃতিক জলাশয়ে অবস্থিত মৎস্য অভয়াশ্রম হয় বিবিধ দেশীয় প্রজাতির মা-বাবা মাছের আশ্রয়স্থল। বর্ষাকালে মৎস্য অভয়াশ্রমের মা-বাবা মাছ প্রজনন করে, ডিম ছাড়ে, বাচ্চা হয়। অতঃপর বর্ষার প্লাবিত খাল, বিল, নদী নালায় ছড়িয়ে পরে দেশীয় মাছের পোনা। মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপনের প্রধান সমস্যা শুষ্ক মৌসুমে পানি স্বল্পতা ও মাছ চুরি হওয়া। উপজেলার হাতিরপুল এলাকার রতনডারাখালে মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপনের পূর্বে খালটিতে শুষ্ক মৌসুমে খুব কম পানি থাকত। অতঃপর উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে খালটির কিছু অংশ খনন করে গভীর করা হয়। এছাড়া অভয়াশ্রমে পানি ধরে রাখতে অভিনব পন্থা অবলম্বন করে খালের ভাটির দিকে/দক্ষিণ দিকে এমন উচ্চতার একটি ক্রস ড্যাম দেওয়া হয় যাতে অভয়াশ্রমে একটি নূন্যতম উচ্চতায় সবসময় পানি থাকে এবং অতিরিক্ত পানি ক্রস ড্যাম অভার ফ্লো হয়ে বের হতে পারে। তাই অভয়াশ্রমের মাছ চুরি রোধে সৌর বিদ্যুৎ দ্বারা চালিত এই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

পাখি পল্লীর দোকানদার শফিকুল ইসলাম জানান পূর্বে পাখি পল্লীতে বিভিন্ন ধরণের খারাপ শ্রেণির মানুষদের আনাগোনা ছিলো। এছাড়া দিনে এবং রাতে এই এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম হতো। খালের মাছসহ অন্যান্য উপকরন চুরি হতো। বখাটেরা এসে নানা ধরণের খারাপ কাজ করতো। এতে করে পাখি পল্লীতে আসা পর্যটকসহ অন্যান্য মানুষরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতো। কিন্তু বর্তমানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করায় পাখি পল্লীতে অন্যরকম পরিবর্তন এসেছে। কেউ খারাপ কোন কিছু ঘটানোর সাহস পাচ্ছে না।

পাখি পল্লীতে আসা পর্যটক আসাদুল ইসলাম জানান পাখি পল্লীতে আসা পর্যটকদের ব্যাগসহ বিভিন্ন উপকরণ চুরি ও বখাটেদের দৌরাত্মের ভয় ছিলো। কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে পাখি পল্লীতে কিছুটা হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া পর্যটন এই এলাকার সৌন্দর্য রক্ষার্থে এই ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই আগামীতে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করাসহ পাখি পল্লীর আরো আধুনিকায়নে শক্তিশালী ভূমিকা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এই পর্যটক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান দীর্ঘদিন ধরে পাখি পল্লীর হাতিরপুল এলাকার অভয়াশ্রম থেকে দিনের বেলা ও রাতের আঁধারে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ কারেন্ট ও রিং জাল, বানাসহ বড়শি দিয়ে মাছ চুরির অভিযোগ ছিল। বিশাল এই এলাকায় সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক স্যারের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শক্রমে স্মার্ট প্রযুক্তির অভিনব কৌশল হিসেবে পাখি পল্লীতে সোলার চালিত এই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ঘরে বসে সার্বক্ষণিক মৎস্য অভয়াশ্রম ও পাখি পল্লীর পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। ভিডিও রেকর্ড থাকছে। ক্যামেরা দ্বারা কথা বলা  ও শোনা যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান এটি সোলার চালিত সিসি ক্যামেরা হওয়ায় বিদ্যুৎ এর কোনো লাইন নেই বিধায় দুষ্কৃতিকারী দ্বারা লাইন বিচ্ছিন্ন করে সিসি ক্যামেরা অফ করে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ২৬ ফুট উচু স্টিল পাইপের উপরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বিধায় ক্যামেরা চুরি হওয়ার সম্ভাবনাও কম। এতে করে এই অঞ্চলে অপরাধমূলক কর্মকান্ডও অনেকাংশই কমে যাবে। উপজেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও এই ধরণের ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া মৎস্য অভয়াশ্রমসহ পুরো পাখি পল্লীকে আরো আধুনিকায়ন করতে ইতিমধ্যেই খালের উপর পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় ঝুলন্ত ব্রীজ স্থাপন, ছাতার আদলে বসার স্থান নির্মাণ, একটি মুক্তমঞ্চ নির্মাণ, গণশৌচাগার নির্মাণ করাসহ নানাবিধ কর্মকান্ড চলমান রাখা হয়েছে।

মন্তব্য (০)





image

দেশের পূর্বাঞ্চলের উপকূল, নদী তীরবর্তী অঞ্চল এবং সেন্টমার...

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদ...

image

নওগাঁয় পুলিশের অভিযানে ৪২ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় পুলিশের একের পর এক বিশেষ অভিযানে আটক...

image

পাবনায় দুটি আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন প্র...

পাবনা প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্...

image

মাগুরায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে পার্...

মাগুরা প্রতিনিধি : আসন্ন গণভোট ২০২৬-এ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ...

image

কক্সবাজারের ৪ টি সংসদীয় আসনে লড়ছেন ১৭ প্রার্থী

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের ৪ টি সংসদীয় আসনে ৩ প্রার্...

  • company_logo