কক্সবাজার প্রতিনিধি : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের মধ্যে গুলাগুলির ঘটনা চলছে। ফলে উত্তাল হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকা। দু'পক্ষের এই লড়াইয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এছাড়া প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় আরসাসহ বিভিন্ন স্বশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫০ সদস্যকে হেফাজতে নিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। এসময় আরও ২ জন রোহিঙ্গা কাঁকড়া শিকারিকে আটক করা হয়।
হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকয় সরেজমিনে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, নাফনদীর বিলাইছরি ও হাসরদ্বীপে ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখা যায়। স্থানীয়রা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে সেনাবাহিনী ও উখিয়া টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য প্রার্থী কক্সবাজার জেলা জামায়াত আমির নূর আহমদ আনোয়ারী, ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্তনা দেন এবং অবরোধ তুলে নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত থেকে আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। সকালের দিকে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় আরকান আর্মি। হামলায় টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পিছু হটলে আরকান আর্মি তাদের তাড়া করে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বেড়িবাঁধ পর্যন্ত চলে আসে এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।
আরকান আর্মির ছোড়া গুলিতে লম্বাবিল এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খেলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে হুজাইফা সুলতানা আফনান নামের এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। সে স্থানীয় হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। আহত শিশুর পিতা জসিম উদ্দিন জানান, "সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে হুজাইফা বাড়ির সামনে খেলছিল। হঠাৎ আরকান আর্মি বেড়িবাঁধের ওপর থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আমার মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার কান বরাবর গুলি লাগে"
মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে এমএসএফ হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, হুজাইফা চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেঁচে আছে।
সীমান্তের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৫০ জন সদস্যকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। তাদের মধ্যে ৩-৪ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এসময় আটক করা হয় আরো ২ জন রোহিঙ্গা। তারা কাঁকড়া শিকারে গিয়েছিল।
আটককৃতদের মধ্যে আরকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা) ৩ জন, রোহিঙ্গা ইসলামী মাহাস ১৮ জন, আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ)
২৯ জন ও ২ জন রোহিঙ্গা কাঁকড়া শিকারি। বিজিবি
কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহি উদ্দিন আহমেদ ৫০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এব্যাপারে সন্ধায় মিডিয়াকর্মীদের প্রেস ব্রিফিং করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এব্যাপারে স্স্থানীয় বাসিন্দা ছৈয়দ আলম বলেন, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত আরসা ও আরকান আর্মির সাথে প্রচুর গুলাগুলি হয়। একপর্যায়ে আরসার সদস্যরা আরকান আর্মির তাড়া খেয়ে এপারে চলে আসে। তাদের গুলাগুলিতে শিশুটির কানের পাশে গুলি লাগে এবং মাটিয়ত লুটিয়ে পড়ে। আমরা খুবই অনিরাপদ ও আতংকের মধ্যে রয়েছি।
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন সাময়িকভাবে শান্ত থাকলেও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র জানান, আরসাসহ ৫০ জন স্বশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হবে।
মন্তব্য (০)