ছবিঃ সংগৃহীত
নিউজ ডেস্কঃ নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নিথর দেহ। মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। তবে এটিকে কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু বা সাধারণ দুর্ঘটনা মানতে নারাজ নিহতের পরিবার; ঘটনাটিকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছেন তার স্বজনেরা।
তাহসিফের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন ও বিস্ফোরক পোস্ট দেন তার খালাতো বোন মোশফেকা জাহান। সেখানে তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের গোপন ভিডিও শেয়ার করার কারণেই তাহসিফকে নির্মম পরিণতির শিকার হতে হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে মোশফেকা জাহান লেখেন, আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে। কী দোষ ছিল তার? হাসিনার পালানোর ভিডিও শেয়ার করা? যেটি তিনি নিজেও ধারণ করেননি, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে শুধু শেয়ার করেছিলেন; হয়তো তার সহকর্মীদের কেউ তা ধারণ করেছিলেন। তাকে অন্যায়ভাবে অবসরে পাঠানো হলো, দিনের পর দিন মানসিক নির্যাতন চালানো হলো, তবুও তাদের শান্তি হলো না। শেষ পর্যন্ত মেরেই ফেলতে হলো তাকে?
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাকরি থেকে অব্যাহতির পরও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন নিয়মিত তাহসিফকে অনুসরণ করত বলে তাহসিফ নিজেই তাঁকে জানিয়েছিলেন। একজন সুস্থ মানুষকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশপ্রেমিক হওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণেই কি এমন চরম মূল্য দিতে হলো?
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঐতিহাসিক দৃশ্যটি জনসমক্ষে ফাঁসের পেছনে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির নাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়ে আসছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। অন্যদিকে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ৪ আগস্ট জানিয়েছিল, কোনো সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক অভিযোগ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তাহসিফকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে।
লাশ উদ্ধারের সময় তার পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো পাঞ্জাবি। হাতে থাকা হাতঘড়ি এবং পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে দ্রুতই তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। পরবর্তীতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রহস্যজনক এই মৃত্যুর পেছনে কোনো নাশকতা বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর খাল এবং কুলাঘাট ইউনি...
পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনার চাটমোহরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মা...
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় জাল নোটসহ আব্দুল জব্বার (...
গাজীপুর প্রতিনিধি: একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআ...
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সাঘাটায় ‘রক্ত দিন জীব...

মন্তব্য (০)