• সমগ্র বাংলা

সিগন্যাল আছে, আলো নেই; ৩৫ লাখ টাকার প্রকল্প অচল

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সংগৃহীত

নজরুল ইসলাম রাজু, রংপুর: যানজট কমিয়ে নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রায় ৩৫ লাখ ৪৭ হাজার ১০০ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল আধুনিক ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল। উদ্বোধনের পর কিছুদিন লাল-সবুজ বাতিতে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে যান চলাচল। তবে তিন বছর না যেতেই অচল হয়ে পড়েছে পুরো ব্যবস্থা।

 

কোথাও সিগন্যালের পোস্ট ভেঙে পড়ে আছে, কোথাও বাতি থাকলেও তা আর কাজে আসছে না। ফলে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে এখন আবারও ভরসা ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারা।

 

রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় ও লালকুঠি মোড়ে স্থাপন করা হয়েছিল ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। চালুর পর কিছুদিন এসব মোড়ে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা দেখা গেলেও ধীরে ধীরে সিগন্যালগুলো বিকল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় নগরীর যানজটও ফিরে গেছে আগের অবস্থায়।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, জাহাজ কোম্পানি মোড় ও লালকুঠি মোড়ে সিগন্যালের বিভিন্ন অংশ ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়েও কয়েকটি বাতি দেখা গেলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নেই। ফলে ব্যস্ত এসব মোড়ে সারাক্ষণ ট্রাফিক পুলিশকে হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।

 

সিগন্যাল অচল থাকার পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে যানজট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শাপলা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, পায়রা চত্বর, সিটি বাজার, লালকুঠি ও মেডিকেল মোড় এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

 

রংপুর সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সধারী অটোরিকশা রয়েছে প্রায় আট হাজার।এর বাইরে লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশার সংখ্যা প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।প্রায় ৩০২ বর্গকিলোমিটারের নগরীতে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা চলাচলের কারণে যানজটের চাপও বাড়ছে।

 

যানজট নিরসনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও সকাল ও দুপুরের ব্যস্ত সময়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অসহনীয় যানজট তৈরি হচ্ছে।সিগন্যাল ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানুয়ালি যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।

 

নগরবাসীর অভিযোগ, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর হয় না। প্রয়োজন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ,দক্ষ জনবল,সড়ক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় এবং চালক-পথচারীদের সচেতনতা। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত সিগন্যাল তিন বছর ধরে অচল পড়ে থাকায় প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

তাদের প্রশ্ন-যানজট কমানোর জন্য যে সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছিল, সেটিই যদি বছরের পর বছর অচল থাকে, তাহলে সেই প্রকল্পের সুফল কোথায়? আর এই ব্যর্থতার দায়ই বা নেবে কে?

 

জাহাজ কোম্পানি মোড়ের ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, ‘এই মোড় শহরের কেন্দ্রবিন্দু। আগে সিগন্যাল চালু থাকায় কিছুটা শৃঙ্খলা ছিল। এখন পুরোপুরি বিশৃঙ্খলা চলছে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে লাগানো সিগন্যাল আজ অকেজো পড়ে আছে।’

 

রিকশাচালক আতাউর রহমান বলেন,‘আগে সিগন্যাল থাকায় কিছুটা সুবিধা ছিল।এখন পুলিশ যেদিকে যেতে বলে সেদিকেই যেতে হয়। অনেক সময় একেকটা মোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।’

 

অটোচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ২০ মিনিটের রাস্তা এখন এক ঘণ্টার বেশি লাগে। যানজট এখন নিত্যদিনের ভোগান্তি।’

 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইতি ও রিফাত বলেন,‘প্রযুক্তির শহর গড়ার কথা বলা হয়,কিন্তু বাস্তবে আমরা শুধু যানজট আর ভোগান্তিই দেখছি। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সিগন্যাল সচল থাকলে অন্তত কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরত।’

 

আগামীর সন্ধানের সম্পাদক ও রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোনাব্বর হোসেন মনা বলেন, ‘যে কয়েকটি স্থানে যানজট হয়, সেগুলো দিয়েই প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন কাজে চলাচল করেন। তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সবচেয়ে বড় কষ্ট হয় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষের।যানজটে আটকে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় অনেকের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ে।’

 

ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিগন্যাল ব্যবস্থা ম্যানুয়াল বা রিমোট কন্ট্রোল এবং স্বয়ংক্রিয়-দুই পদ্ধতিতে পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, বিভিন্ন অংশ নষ্ট হওয়া এবং ক্ষতির কারণে বর্তমানে দুই ব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

 

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ বলেন, ‘নগরীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মোড়ে স্থাপিত আধুনিক ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল বর্তমানে অচল রয়েছে।বিষয়টি ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য চিঠিও দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সিগন্যালগুলো পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে।এগুলো কার্যকর হলে নগরীর যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে।’

 

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী ডন বলেন,‘নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে স্থাপিত আধুনিক ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যালগুলো বর্তমানে অচল।বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। জনভোগান্তি লাঘব ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সিগন্যালগুলো দ্রুত মেরামত ও পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য (০)





image

মানিকগঞ্জে তিনটি সড়কের উন্নয়নকাজ উদ্বোধন করলেন খাদ্যমন্ত্...

১

মা‌নিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় তিনটি সড়কে...

image

চাটমোহরে বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৩৯ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

২

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনার চাটমোহরে পাবনা জেলা কিন্ডারগার্টেন অ...

image

থানায় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাকবিতণ্ডা, পুলিশের জিডি

৩

নিউজ ডেস্কঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভেতরে ভারপ্রাপ্ত কর্...

image

নওগাঁয় তিন ছিনতাইকারী গ্রেফতার

৪

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর সদর উপজেলায় এক মিস্ত্রিকে ভয়ভীতি দেখ...

image

পাবনায় গাছ চাপায় প্রাণ গেল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখ...

৫

পাবনা প্রতিনিধিঃ নিজ এলাকায় একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে দ্বী...

  • company_logo