• সমগ্র বাংলা

১০ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রী, নিখোঁজ বোনের ছবি ও প্ল্যাকার্ড হাতে আদালত চত্বরে ভাই

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

নড়াইল প্রতিনিধিঃ হাতে প্ল্যাকার্ড। চোখে কালো কাপড় বাঁধা। প্ল্যাকার্ডে লেখা—‘বিচার ব্যবস্থা অন্ধ কেন?’ এভাবেই মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নড়াইল আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সবুজ দাস। তার দাবি, ৯ দিন ধরে নিখোঁজ তার ছোট বোন রুপা দাসকে (১৫) অপহরণ করা হয়েছে। দ্রুত বোনকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে তিনি এই প্রতিবাদ করেন।

রুপা দাস নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা এবং বোড়ামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেছে পরিবার।

সবুজ দাস বলেন, তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ১৩ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার বোন আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। তাদের ধারণা, রুপাকে অপহরণ করা হয়েছে।

সবুজ বলেন, ‘আমরা কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছি। মামলায় একজনকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আদালত থেকে তাদের জামিন দেওয়া হয়েছে। অথচ আমার ছোট বোনকে এখনো ফিরে পাইনি। পুলিশও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান দিতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে বোনের সঙ্গে পরিবারের কারও যোগাযোগ হয়নি। বোনকে দ্রুত উদ্ধার ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে তিনি আদালত চত্বরে প্রতিবাদ করতে এসেছেন।

রুপার বড় ভাই সাগর দাসের করা এজাহার অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বোড়ামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে রুপাকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে রবিউল ইসলাম (১৯), আলিফ শিকদার (১৯), আম্বিয়া বেগম (৪০), জান্নাতি খানম (২০) ও রুমন বিশ্বাস (৩২)–এই পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রবিউল ইসলাম বেশ কিছুদিন ধরে রুপাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রুপা তাতে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন। পরে তাকে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

এজাহারে বলা হয়, ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা দুইটার দিকে বোড়ামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাইজপাড়া-তুলারামপুর সড়কে রবিউল ও আলিফ মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিলেন। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে রুপাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রুপাকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, তারা রবিউল ও আলিফকে স্কুলের সামনে থেকে রুপাকে মোটরসাইকেলে করে তুলারামপুরের দিকে নিয়ে যেতে দেখেছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা রবিউলের বাড়িতে গিয়ে রুপার বিষয়ে জানতে চান। সেখানে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় এবং রবিউল ও আলিফকে রুপাকে নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে সহায়তা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন সাগর দাস।

এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত  রবিউল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাওকে পাওয়া যায়নি।স্থানীয়রা তাদের ফোন নাম্বার নেই বলে জানান, ফলে অভিযুক্ত কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রাসেল সরোয়ার বলেন,ওই মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করে আদালত প্রেরন করা হয়েছিল। অন্য দুই জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।তার এখন আদালত থেকে জামিনে আছেন। প্রধান আসামি গ্রেফতার করতে আমরা কাজ করছি৷ তাদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে দ্রুত তাকে গ্রেফতার করতে পারবো। 

মন্তব্য (০)





image

বগুড়ায় ট্রাক মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৭

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুরে ভুট্টাবাহী ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর...

image

পাবনায় মাস্ক পরে জুয়েলার্সে ঢুকে সাড়ে ৪ লাখ টাকার স্বর্ণ ...

পাবনা প্রতিনিধিঃ ক্রেতা সেজে স্বর্ণের দোকানে ঢুকেছিলেন ...

image

কালীগঞ্জ বাজারে এমটিবির এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টারের উদ্বোধন

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ বাজারে মিউচুয়াল ট্রাস্...

image

গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতন...

image

ঝিনাইদহে অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের পর ঘাতকের শাস্তি...

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের মহেশ...

  • company_logo