স্পোর্টস ডেস্ক : বোস্টনে জার্মানি প্যারাগুয়ের কাছে হেরেছে পেনাল্টি শ্যুটআউটে। তবে তার আগে একটি গোল বাতিল হয়েছিল দলটির। এই সিদ্ধান্তই ইউলিয়ান নাগেলসমানের দলকে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বঞ্চিত করে।
কাই হাভার্টজ সমতা ফেরানোর পর জার্মানি ও প্যারাগুয়ে ১-১ গোলে আটকে ছিল। চারবারের চ্যাম্পিয়নরা প্রথমার্ধে হুলিও এনসিসোর হেডের জবাব দেয় হাভার্টজের গোলে।
অতিরিক্ত সময়ে নাথানিয়েল ব্রাউনের লুপিং কর্নার থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করেন ডিফেন্ডার জোনাথান টাহ। জার্মান বেঞ্চ তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে, মনে করেছিল পরের রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে প্রধান ভিএআর তাতিয়ানা গুজমান মরক্কান রেফারি জালাল জায়েদকে পিচ-সাইড মনিটরে ডেকে পাঠান। সেখানে দেখা যায়, ওয়ালডেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সঙ্গে ফাউল করেছেন। এতে বিতর্কিতভাবে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নির্ভর করেছিল আন্তনের অবস্থানের ওপর। কর্নার আসার সময় জার্মান এই ডিফেন্ডার ইচ্ছাকৃতভাবে গিলের ঠিক সামনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বল ধরার চেষ্টার সময় তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। এটি অনেক শীর্ষ ক্লাবেই ব্যবহৃত একটি স্বাভাবিক কৌশল। তবে ফিফার নতুন নিয়মে গোলরক্ষকদের এই ধরনের কৌশল থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা তাদের নড়াচড়ার স্বাধীনতা সীমিত করে দেয়।
রিপ্লেতে শারীরিক সংস্পর্শ খুবই সামান্য মনে হলেও, ক্রস আসার সময় গিল মাটিতে পড়ে যান। ফিফার কঠোর টুর্নামেন্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, নিজেদের ছয় গজ বক্সে গোলরক্ষককে বল ধরতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া বা আড়াল করাকে ফাউল হিসেবে গণ্য করা যায়। রেফারি জায়েদ রায় দেন, আন্তনের এই বাধাদান ছিল অবৈধ এবং এর ফলেই টাহর জন্য গোলের পথ খুলে যায়। সে কারণে টাহর সে গোল বাতিল হয়।
এই সিদ্ধান্ত টেলিভিশন স্টুডিওগুলোতে তাৎক্ষণিক ক্ষোভের জন্ম দেয়। বিশ্লেষকরা কড়া সমালোচনা করেন। তাদের যুক্তি, এত বড় ম্যাচে মাঠের সিদ্ধান্ত বাতিল করার মতো স্পষ্ট প্রমাণ ছিল না।
বিবিসিতে কথা বলতে গিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার গোলরক্ষকের আচরণ এবং পরবর্তী রিভিউ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি একদমই একমত নই। সামান্য স্পর্শেই গোলরক্ষক মাটিতে পড়ে গেছে, এটা খুবই হালকা ছিল। আমার মনে হয়েছে এটা একটা ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। বুঝতে হবে এটা শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। গোলরক্ষক রেফারি আর ভিএআরকে বোকা বানিয়েছে। তার পড়ে যাওয়ার ভঙ্গিটা একেবারে হাস্যকর ছিল।’
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ জার্মান কোচ নাগেলসমান বাতিল হওয়া এই জয়সূচক গোল নিয়ে স্পষ্ট কথা বলেন। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন, জার্মানির মতো ঐতিহ্যবাহী দলের কখনোই একটি মাত্র রেফারির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
দোভাষীর মাধ্যমে নাগেলসমান বলেন, ‘অবশ্যই বলা যায়, আমরা অন্যভাবে সমাধান করতে পারতাম। তবে ওই গোলটা বৈধ ছিল। এটা বাতিল হওয়া একেবারে হাস্যকর একটা ব্যাপার।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে শেষ কথা হলো, এত বড় টুর্নামেন্টের প্রথম নকআউট রাউন্ডেই যদি এতগুলো দলের মধ্যে আমরা বাদ পড়ে যাই, তাহলে এটা স্পষ্টতই জার্মান ফুটবলের জন্য যথেষ্ট নয়।’
এই কৌশলগত বিতর্ক চলতেই থাকবে। তবে জার্মানির জন্য ইতিহাস এখন আর বদলানোর নয়। অতিরিক্ত সময়ের জয়সূচক গোল বাতিল হওয়ার পর হতাশ জার্মান দল পেনাল্টি শুটআউটে তিনটি শট মিস করে, যার মধ্যে ছিল টাহর শেষ শটও।
মন্তব্য (০)