গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকায় পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চাদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তুষার খানের বিরুদ্ধে। প্রতি কেজি ঝুটের বিপরীতে তিন টাকা করে চাঁদা দাবি এবং তা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ট্রাক ফিরিয়ে দেওয়া ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ করেছেন ঝুট ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তুষার খান।
এ ঘটনায় তুষার খান, তার ভাই ইসতিয়াক খানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে শনিবার (১৭ অক্টোবর) গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মজিবুর রহমান।
অভিযোগকারী মজিবুর রহমান রাজধানীর পল্লবী থানার বর্ধিত পল্লবী এলাকার শামসুল হকের ছেলে। তিনি ২০১৩ সাল থেকে গাজীপুরের গাছা থানার শরীফপুর এলাকার লুইটেক্স ম্যানুফ্যাকচারিং পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা করছেন।
অভিযুক্ত তুষার খান ও তার ভাই ইসতিয়াক খান গাছা থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) এলাকার শামসুল আলম খানের ছেলে। তুষার খান গাছা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে মজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, শরীফপুর এলাকায় তার ব্যক্তিগত জমিতে ছয়তলা একটি ভবন রয়েছে। সেখানে লুইটেক্স ম্যানুফ্যাকচারিং পোশাক কারখানা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে ওই কারখানার ঝুট কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত তিনি।
মজিবুরের অভিযোগ, তুষার খান, তার ভাই ইসতিয়াক খান ও তাদের সহযোগীরা বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে ঝুট কেনায় বাধা দিতেন। কারখানাটিতে তাকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। তাদের দাবির প্রতিবাদ করায় তাকে গালিগালাজ ও অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে তার কাছে প্রতি কেজি ঝুটের বিপরীতে তিন টাকা করে চাদা দাবি করা হয়। চাদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লুইটেক্স ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা থেকে ঝুট নেওয়ার জন্য শ্রমিকসহ একটি ট্রাক পাঠান মজিবুর। তবে তুষার খান, ইসতিয়াক খান ও তাদের সহযোগীরা গাছা থানার মালেকের বাড়ি রোড থেকে ট্রাকটি ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ তার।
এর দুই দিন পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে একই কারখানা থেকে ঝুট নেওয়ার জন্য আবারও শ্রমিকসহ ট্রাক পাঠান মজিবুর। এ সময় মালেকের বাড়ি রোডে অভিযুক্তদের নির্দেশে ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ট্রাকের চালক ও শ্রমিকদের মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে চালকের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দিয়ে ট্রাকটি এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
মজিবুর রহমানের অভিযোগ, এসব ঘটনার কারণে তিনি কারখানা থেকে ঝুট নিতে পারছেন না। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালেও তুষার খানের লোকজন কারখানার আশপাশে শোডাউন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে তুষার খান তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদা দাবি, ট্রাক ফিরিয়ে দেওয়া এবং চালক ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারখানার ভেতরে একটি ঝামেলা হয়েছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে গাছা থানা বিএনপির সভাপতি প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য কারখানায় একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েকজন সেখানে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, কোনও সমস্যা হলে এবং নিজেরা সমাধান করতে না পারলে গাছা থানা বিএনপির সভাপতির সঙ্গে বসতে।
তুষার খানের দাবি, ওই ব্যক্তিরা ঝুট ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেননি বা তার সঙ্গে দেখাও করেননি।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনবার জেল খেটেছি। সাংবাদিকেরা যদি অসত্য সংবাদ প্রকাশ করেন, তাহলে এতো বছরের অর্জন শেষ হয়ে যাবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানার ওসি গোলাম রব্বানী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
গাছা থানার এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কারখানায় প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তারা কী কারণে বা কোন উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।
মন্তব্য (০)