পাবনা প্রতিনিধি : বাড়িতে ওঠা বৃষ্টির পানি বের করতে জমির আইল কাটার অপরাধে আয়শা খাতুন (৫০) নামে এক বিধবাকে মারধর, হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক সেনা সদস্য ও তার দুই ছেলে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি এমনই ঘটনা ঘটেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের নড়াইখালি গ্রামে। ঘটনার পর থানায় মামলা করতে লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করছে না বলে অভিযোগ। এ নিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী ও এবং তাদের স্বজনরা।
ভুক্তভোগী আয়শা খাতুন নড়াইখালি গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। আর অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম (৫০) একইগ্রামের মৃত ওমেদ আলীর ছেলে। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। তার সাথে অভিযুক্ত দুই ছেলে শাহরিয়ার রাব্বি ও রাকিবুল ইসলাম। তারাও বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ঘটনার দিন তারা ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন।
অভিযোগে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রবল বর্ষণে বিধবা আয়শা খাতুনের বাড়ির পেছনে জমি তলিয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সেই জলাবদ্ধতায় বাড়িতেও পানি উঠে যায়। কোনো উপায় না পেয়ে সেই পানি বের করতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জমির আইল কেটে দেন তিনি। সেটা দেখে সাবেক সেনা সদস্য শফিকুলের ভাই রজব আলী, মফিজ উদ্দিন আর মফিজের ছেলে মনিরুল ইসলাম গিয়ে বিধবার সাথে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি করেন।
বিধবা আয়শা ও তার স্বজনদের অভিযোগ, এরপর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ক্ষুব্ধ সাবেক সেনা সদস্য শফিকুল, তার দুই ছেলে রাব্বি ও রাকিবুল কে সাথে নিয়ে আয়শা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করে হাত ভেঙে দেয়। এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে তার মেয়ে ও পুত্রবধূকেও মারধর করেন তারা। পরে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক।
এ ঘটনায় মারধরের শিকার আয়শা খাতুনের ছেলে আসলাম হোসেন বাদি হয়ে ওইদিন রাতে চাটমোহর থানায় মামলা দায়েরের জন্য লিখিত অভিযোগ দেন। এসআই রফিকুল ইসলাম ঘটনার সরেজমিন তদন্ত করেন। কিন্তু ঘটনার ৯দিন পার গয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে মামলা নথিভুক্ত করেনি চাটমোহর থানা পুলিশ।
বিধবা আয়শা খাতুনের ভাষ্য, স্বামী মারা গেছে ১৫ বছর আগে। তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, একমাত্র ছেলে ভ্যান চালায়। তিনি বাড়িতে হাঁস মুরগী পালন করে কোনোমতে সংসার চালান। প্রবল বৃষ্টিতে বাড়িতে পানি উঠে বসবাস করতে পারছিলেন না। পানিতে ডুবে থাকায় ঘরের পেছনে ঢেড়শের জমিও নষ্ট হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে পশ্চিমপাশের আইলটা একটু কেটে দিয়েছিলেন, যাতে পানিটা বের হয়ে যায়। কিন্তু শফিকুল তার জমির উপর দিয়ে পানি বের হতে দেবেনা বলে দুই ছেলেকে নিয়ে গিয়ে তাকে মেরে হাত ভেঙে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আসলে আমাকে এখান থেকে উচ্ছেদ করতে শফিকুল অনেকদিন ধরে ষড়যন্ত্র করছেন। আমি কি এমন অপরাধ করেছি। আমি এর ন্যায্য বিচার চাই।
তার ছেলে আসলাম হোসেন বলেন, আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ তদন্ত করেছে। কিন্তু মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। পরে জানতে পারি অভিযুক্তরা সেনা সদস্য বলে মামলা নেয়া যাবে না। আদালতে মামলা করতে বলেছে। কিন্তু এটা কি আইন বলেন তো। আমরা গরীব বলে কি বিচার পাবো না?
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেনা সদস্য দুই ভাই শাহরিয়ার রাব্বি ও রাকিবুল ইসলাম বলেন, জমির আইল কাটা দেখে আমরা দুই ভাই দেখতে গিয়েছিলাম যে, কতটুকু কাটছে। সেখানে যাবার পর উনার মেয়ে নাম সম্ভবত ইসমত আরা সে আমাদের ধাক্কা দেয়। আমরা সেনাবাহিনীতে চাকুরী করি, তাই আর কথা না বাড়িয়ে নিজেদের সম্মান বাঁচাতে আমরা দ্রুত সেখান থেকে চলে আসি। ওই মহিলার সাথে আমাদের কোনো ধরণের মারধরের ঘটনা ঘটেনি। উনার হাত আগে থেকে ভাঙা, সেদিন পা পিছলে পড়ে গিয়ে আবার আঘাত পেয়েছেন। এখন আমাদের উপর মিথ্যা দোষ চাপাচ্ছেন।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান জানান, আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা গিয়েছিলেন তদন্ত করতে। এর মধ্যে আমাদের এক এসআই আবুল কালাম আজাদ মারা গেছেন, সেটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। দেখি আজকে রাতে গিয়ে বিষয়টা দেখছি।
সেনা সদস্য জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিচ্ছেন না-আইনে কি এরকম কোনো বাধ্য বাধকতা আছে কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, কিছুটা বিষয় আছে। তাদের ইউনিটকে জানাতে হবে। তাদের কিছুটা ইয়ে আছে। আইনটা একটু দেখে তারপর আপনাকে জানাবো।
মন্তব্য (০)