• সমগ্র বাংলা

রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে চলনবিল-বড়াল নদী দখল হয়েছে: মিজানুর রহমান

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

পাবনা প্রতিনিধিঃ রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে চলনবিল, বড়াল নদী দখল দূষণ করা হয়েছে। ফলে হারিয়ে গেছে নদীর গতিপথ, হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র্য। বছরের পর বছর এভাবেই নদীকে শাসন করেছে এক শ্রেণীর মানুষ।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাবনার চাটমোহরে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটি আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বড়াল রক্ষা আন্দোলন ও চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বিল, নদীর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। সেটি আজকে আমরা অনুধাবন করতে না পারলেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বুঝতে পারবে আমরা তাদের জন্য কেমন পৃথিবী রেখে গেলাম।

আজকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নির্মাণে বুড়ি পোতাজিয়ায় চলনবিলের পতিতমুখ, বড়াল নদীর পতন মুখ এবং গোহালা নদীর পতন মুখ বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ৫২০ কোটি টাকা ব্যয় যদি ওই স্থানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপিত হয় তাহলে চলনবিলের পানি যমুনাতে যাবার একমাত্র পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে চলনবিল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় চাই তবে সেটি চলনবিলকে ধ্বংস করে নয়। কারণ চলনবিলের অভ্যন্তরে ৪৭ টি নদী, ১৬৩ টি বিল, ৩০০টির বেশি খাল, ১ লক্ষ ২০ হাজার পুকুর, ১০৫ প্রজাতির দেশী মাছ, ৩৪ প্রজাতির সরিসৃপ, ২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৭ প্রকারের উভচর প্রাণী, ৩৪ প্রজাতির পাখি, অসংখ্য প্রকারের জলজ ও স্থলজ উদ্ভিদ এবং জলজ প্রাণীর উপস্থিতিসহ বৈচিত্রের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৬টি জেলার এক কোটিরও বেশি মানুষ নির্ভরশীল।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীকে তাদের ইশতেহারে জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষায় বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্তকরনে চলনবিল এবং বড়াল রক্ষায় কি কি যুগ উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন সে বিষয়ে লিখিতভাবে জানানো হবে।

মতবিনিময় সভায় সাবেক কাউন্সিলর শ্রী জয়দেব কুন্ডু, এ্যাডভোকেট এস এম আব্দুর রউফ, প্রধান শিক্ষক দিল আফরোজা, শিক্ষক আব্দুস সালাম, ডাক্তার আতিকুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

মন্তব্য (০)





  • company_logo