মাদারীপুর প্রতিনিধি: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কর্তব্য অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও এর ব্যতিক্রম হিসেবে কর্মোদ্যমী, সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও রয়েছেন। যারা লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে নিজ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলেন জনবান্ধব ও বিপদগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়স্থল। তাঁদের অন্যতম মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ.এম. ইবনে মিজান।
তাঁর সততা ও কর্মদক্ষতায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে এসেছে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা। কমেছে জনভোগান্তি, বেড়েছে জনসেবার মান। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, দুঃখ-কষ্ট শোনা এবং অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছেন।
গত অক্টোবর মাসে উপজেলার পাঁচ্চর এলাকার অসহায় রেনু বেগম ও তাঁর সত্তরোর্ধ্ব স্বামী ইনছুর আলীর দুঃখ–দুর্দশা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণশীর্ণ ঘরে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন এই অসহায় দম্পতি। সংবাদটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ.এম. ইবনে মিজান বৃষ্টি উপেক্ষা করে হুইলচেয়ার, চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে যান তাঁদের বাড়িতে। মনোযোগ সহকারে শোনেন তাদের কষ্টের কথা। তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার ব্যবস্থা নেন। হতদরিদ্র এই পরিবারটির জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় একটি কার্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি তাঁদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি গাভী ও নগদ অর্থ উপহার দেন।
এছাড়াও চরশ্যামাইল এলাকার একটি অসহায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি গাভী উপহার দেওয়া হয়। অপরদিকে কাঠালবাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যাদের বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না এমন একটি পরিবারের খবর পেয়ে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করেন। এতে করে দীর্ঘদিন পর আলোর মুখ দেখে পরিবারটি। একই সঙ্গে ওই পরিবারটিকেও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চালের কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শুধু এই ঘটনাটিই নয়, এ রকম অনেক দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলার সর্বমহলে প্রশংসিত হন এই ইউএনও।
২০২৫ সালের ২৪ আগষ্ট তিনি শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শিবচর উপজেলা প্রশাসনকে নিজের মতো করে ঢেলে সাজান। উপজেলাকে একটি উন্নত আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরালসভাবে কাজ করছেন তিনি। জনবান্ধব এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার বিভিন্ন সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
তাঁর সততা ও কর্মদক্ষতায় উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরে আসতে শুরু করে। কমে যায় জনভোগান্তি আর বৃদ্ধি পায় জনসেবার মান। পরিদর্শন করেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্প। কোথাও কোনো সমস্যা দেখলে নেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। তা ছাড়া গণমাধ্যম, ফেসবুক, মুঠোফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুত সমাধান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
জন্মনিবন্ধনের কাজে চরজানাজাত এলাকা থেকে উপজেলা পরিষদে আসেন রেনুকা বেগম। তিনি বলেন, আগে অফিসে ঘুরেও কাজ হতো না। এখন ইউএনও স্যার নিজেই আমাদের কথা শুনেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই আমার কাজটি ঠিক করে দিয়েছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এমন কর্মকর্তাই আমরা চেয়েছিলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ.এম.ইবনে মিজান বলেন, শিবচরকে আধুনিক উন্নত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। নিজে কি পেলাম সেটা বড় কথা নয়, দেশ ও জাতীর জন্য কি করতে পেরেছি সেটাই বড় কথা। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য সব সময় চেষ্টা করি। আমি হয়তো একদিন এই উপজেলায় থাকব না, কিন্তু থেকে যাবে আমার কর্ম। যদি ভালো কাজ করে যেতে পারি, তাহলে শিবচরবাসী আমাকে আজীবন মনে রাখবে।
মন্তব্য (০)