
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মাদারগঞ্জে শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে শত শত গ্রাহক বিক্ষোভ করেছেন।
রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকে মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে বিভিন্ন সমবায় সমিতির প্রতারিত গ্রাহকরা এই বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে বিকাল ৪টায় শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান বিক্ষোভস্থলে পৌঁছে আমানত ফেরতের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের অভিযোগ, শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে তাদের টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট সমাধান দিতে পারেননি। এতে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে, শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত তাদের পাওনা টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে আপনাদের কষ্টার্জিত একটি টাকাও খোয়া যাবে না। কিছু জটিলতার কারণে টাকা পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে, তবে খুব দ্রুতই সকল পাওনা পরিশোধ করা হবে।" তিনি গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানান এবং বলেন যে তিনি নিজেই এই সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন।
চেয়ারম্যানের আশ্বাসের পর বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেওয়া হয়, তাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং গ্রাহকদের পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করবেন।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নিয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলায় দুই শতাধিক সমবায় সমিতি গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতি, শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতি, স্বদেশ বহুমুখী সমবায় সমিতি, নবদ্বীপ বহুমুখী সমবায় সমিতি, জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি অন্যতম। এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক হাজার কোটি টাকার আমানত জমা রাখেন। এদের মধ্যে আল-আকাবা, শতদল বহুমুখী, স্বদেশ ও আশার আলো সমিতিতে সবচেয়ে বেশি টাকা জমা রাখা হয়। শুরুর দিকে গ্রাহকদের মুনাফা দিলেও বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকজন টাকা নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এতে সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকে।
মাদারগঞ্জ সমবায় সমিতির টাকা উত্তোলন কমিটির সভাপতি শিবলুল বারী রাজু'র নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নাদির শাহ্, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল্লাহ সাইফ সহ বিভিন্ন দল ও মতের লোক জন উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
এই ঘটনায় মাদারগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অসংখ্য সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চিত টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
মন্তব্য (০)