
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সম্মেলনের ছয় মাস পর উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কৃত নেতা মাহাবুবুল হাসানকে কমিটির সহসভাপতি করা হয়েছে।
গত ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিলিয়ে কেবল চার সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর ৬ মাস পর গত ৮ আগস্ট জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের স্বাক্ষরে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
এবার নতুন কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা। ১০১ সদস্যের কমিটিতে ৭ জনকে সহ-সভাপতি, তিনজনতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ ও দুইজনকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৮৬ জনকে সম্পাদক ও সদস্য করা হয়েছে। সহ-সভাপতিদের মধ্যে বাবু শ্যামল চন্দকে ১ নম্বর এবং বহিষ্কৃত নেতা মাহাবুবুল হাসান ২ নম্বরে রয়েছেন। মাহাবুবুল হাসান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন।
বহিষ্কৃত নেতাকে সহ-সভাপতি করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা বলেন, বহিষ্কারের কোনো পেপারস আমাদের কাছে, জেলার কাছেও নাই। আমরা পায় নাই। সম্মেলনের কারণে জেলা আমাদের এই কমিটি পাশ করছে। ভুলের কারণে চলে গেছে, এটা জেলাকে জানানো হয়েছে। তাকে বহিষ্কার করবে এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।
মাহাবুবুল হাসান মালিহা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, বহিষ্কৃত নেতা মাহাবুবকে পদ দেওয়া গঠনতন্ত্রবিরোধী। একজন নেতার বহিষ্কার আদেশ থাকার পরও কিভাবে নতুন কমিটিতে ঠাঁই হয়, এটা আমাদের বোধগম্য নয়। যে লোক আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন, আওয়ামী লীগের দোসরকে পদে দেওয়ায় ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশ।
বহিষ্কারের বিষয়ে সেইসময় মাহাবুবুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আমি কখনোই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে আমাকে সদস্য করার বিষয়টিও আমি জানতাম না। আমি যে সদস্য, সেই ধরনের কোনো চিঠিও কখনো আমি পাইনি।
তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেখলাম। এর আগে আমি কখনোই দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আর আমার সঙ্গে বিএনপির কোনো লোকজনও নাই।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মাহাবুবুল হাসান বলেন, আমি বিসিকেলি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি নাই। ডিজিএফআই’র মাধ্যমে নমিনেশন পেপার সাবমিট করছিলাম। পরে আর আমি সেখানে যায়ও নাই, অটোমেটিক বাতিল হয়ে গেছে। সেসময় অনেক কিছুই বলানো হয়েছে। ফ্যাসিস গভর্মেন্ট আমাদের নিয়ে গুম, খুন, অনেক কিছুর ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। বাস্তবে আমি বহিষ্কারের চিঠিটা পাই নাই। কখনও আমার কাছে আসেও নাই।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজীব বলেন, বিষয়টা আমার জানা নেই। তবে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের আগেই যদি কাউকে পদ দেওয়া হয় তাহলে এটা খুবই দুঃখজনক।
মন্তব্য (০)