নিউজ ডেস্ক : ধনকুবের বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন তার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। নিজের শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ নিয়ে বেশ বিপাকেই পড়তে যাচ্ছেন বিল ও মেলিন্ডা গেটস-কন্যা ফিবি। কোডিংয়ে নিজের অভিজ্ঞতা সীমিত হওয়ার পরও একটি প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি কতটা যোগ্য, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ফিবির স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠী জানিয়েছেন, এই ধনকুবের-কন্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডভান্সড কোডিংয়ের কোনো ক্লাস করেননি। কারণ, হিউম্যান বায়োলজিতে (মানব জীববিজ্ঞান) তার স্নাতক ডিগ্রির জন্য এটির কোনো প্রয়োজন ছিল না।
ওই সূত্র জানায়, ‘প্রকৃতপক্ষে ফিবিকে কম্পিউটার সায়েন্সের একটি ক্লাসও করতে হয়নি। কম্পিউটার সায়েন্স কীভাবে কাজ করে, এমন বিষয় বোঝার জন্য তিনি হয়তো কিছু ক্লাস করে থাকতে পারেন, তবে সেটি মূলত জীববিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রিক হওয়ারই কথা—যদি তিনি আদৌ সেসব ক্লাস করে থাকেন।’
এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও স্ট্যানফোর্ড কর্তৃপক্ষ বা ফিবি গেটস কোনো সাড়া দেননি।
সূত্রটি আরও ব্যাখ্যা করে, ফিবি চাইলেই হুট করে অ্যাডভান্সড কোডিং ক্লাসে যোগ দিতে পারতেন না। এর জন্য তাকে আগে কিছু আবশ্যিক প্রাথমিক কোর্স সম্পন্ন করতে হতো। নিজের নিয়মিত পড়াশোনার রুটিনের সঙ্গে সেগুলো মেলানো তার জন্য বেশ কঠিনই ছিল, বিশেষ করে যেহেতু তিনি এক বছর আগেই গ্র্যাজুয়েশন বা স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।
তবে ২৩ বছর বয়সী ফিবি ‘অ্যাপ্লায়েড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (ফলিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও উদ্যোক্তা বিষয়ক একটি ক্লাস করেছিলেন। এই ক্লাসটিই মূলত তার স্টার্টআপ ‘ফিয়া’র ধারণা তৈরিতে সাহায্য করেছিল। স্ট্যানফোর্ডের রুমমেট ২৫ বছর বয়সী সোফিয়া কিয়ানির সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এই মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল পার্সোনাল শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেন।
স্টার্টআপটিতে ‘কুকি-স্টাফিং’-এর অভিযোগ ওঠার পর চলতি সপ্তাহে তরুণ এই উদ্যোক্তারা বড়সড় এক প্রযুক্তি কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। তবে এখন জানা যাচ্ছে, টেক দুনিয়ার এই ‘নেপো বেবি’ (স্বজনপ্রীতির সুবিধাপ্রাপ্ত) ও তার স্টার্টআপটি খোদ তার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই হাসির খোরাক ছিল।
সূত্র অনুযায়ী, ফিবির স্ট্যানফোর্ডের সহপাঠীরা তাকে কোনো দক্ষ কোডার হিসেবে চিনতেন না। এমনকি ‘ফিয়া’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা যখন ঘোষণা করা হয়, তখন কম্পিউটার সায়েন্সের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাকি ‘তাদের মুখের ওপরই হেসে দিয়েছিলেন’ বলে জানা যায়।
কিয়ানির একজন প্রতিনিধিও নিশ্চিত করেছেন যে তিনি স্ট্যানফোর্ডে কম্পিউটার সায়েন্সের কোনো প্রথাগত ক্লাস করেননি। সূত্রটি কটাক্ষ করে বলেছে, কিয়ানি তার ‘সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড সোসাইটি’ ডিগ্রিতে যেসব কোর্স করেছেন, তা থেকে ‘কুকি জিনিসটা আসলে কী, তা-ই তার জানার কথা নয়’।
ফাঁস হওয়া কিছু স্ল্যাক বার্তায় দেখা গেছে, কিয়ানি তার প্রকৌশলীদের সঙ্গে ‘ফিয়া’র বিতর্কিত ‘কুকি স্টাফিং’ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং কুকিগুলো ‘ড্রপ’ করে যেতে (ফেলে রাখতে) নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্ল্যাকে এক প্রকৌশলীকে তিনি বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, ‘এই কুকিগুলো ক্রমাগত ড্রপ করে যাওয়ার জন্য আমরা যা যা করতে পারব, তা দারুণ হবে।’
ফিবি গেটস তার স্ট্যানফোর্ডের রুমমেট সোফিয়া কিয়ানির (ডানদিকে ছবিতে) সঙ্গে মিলে ‘ফিয়া’ তৈরি করেন
সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিয়ার ‘অটো ড্রপ’ ফিচারটির কারণে কোম্পানিটি সম্ভবত এমন সব কেনাকাটার ওপরও কমিশন সংগ্রহ করতে পেরেছে, যেগুলোতে তারা বাস্তবে কোনো ক্রেতাকে পাঠায়নি।
ফিয়া কর্তৃপক্ষ প্রথমে এটিকে একটি ‘সফটওয়্যার বাগ’ বা ত্রুটি বলে দাবি করেছিল। তবে কিয়ানির ফাঁস হওয়া স্ল্যাক বার্তাসহ নতুন প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ফিচারটি কয়েক মাস ধরেই চালু ছিল।
‘কুকি স্টাফিং’ হলো এমন একটি প্রতারণামূলক পদ্ধতি, যা দেখে মনে হতে পারে কোনো একটি কোম্পানি একজন ক্রেতাকে কোনো রিটেইলার বা বিক্রেতার কাছে পাঠিয়েছে, বাস্তবে হয়তো তারা তা করেনি—আর এর মাধ্যমে কোম্পানিটি অন্যায্যভাবে কমিশন হাতিয়ে নিতে পারে)।
অবশ্য কোম্পানিটি এই অনুসন্ধানের কিছু অংশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা জানিয়েছে, এই ফিচারটি ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রিগুলো তারা পর্যালোচনা করে দেখছে।
ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, জুলাই মাসে ফিয়া ওই ফিচারগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর কোম্পানিটির গড় দৈনিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার থেকে এক ধাক্কায় কমে ১০ হাজার থেকে ২৮ হাজার ডলারের মধ্যে নেমে আসে।
বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে দ্য পোস্ট জানিয়েছে, ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের এক বিলাসবহুল পেন্টহাউসে বসবাসকারী ফিবি ও তার সঙ্গী কিয়ানির ‘কুকি স্টাফিং’ অভিযোগের কারণে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের মতো কড়া শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা হতে পারে এবং বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও গুনতে হতে পারে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
মন্তব্য (০)