• সমগ্র বাংলা

ঘুরতে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ট্রাকচালক কারাগারে

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

গাজীপুর প্রতিনিধি: কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য সকালে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন এক কিশোরী। কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছানো হয়নি তার। পরিচিত এক বান্ধবী ও এক ট্রাকচালকের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার প্রলোভনে দিনভর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর গভীর রাতে কালীগঞ্জের একটি নির্জন স্থানে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকের সন্দেহে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে অভিযুক্ত ট্রাকচালককে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গত ৫ জুলাই দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন (৬ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর ভগ্নিপতি বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মামলা (নং-৬) দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তার হওয়া জাহাঙ্গীর আলম (২৬) গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের ধুলাসাদুখা এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার পৈতৃক বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। তিনি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার প্রাণ-আরএফএল কোম্পানিতে ট্রাকচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী নরসিংদীর পলাশ উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় দুলাভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে থাকতেন এবং স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক বান্ধবীর মাধ্যমে অভিযুক্তের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ জুলাই সকালে কিশোরী কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে বান্ধবী ও অভিযুক্ত তাকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরে প্রতিষ্ঠানের একটি ট্রাকে করে তারা কালীগঞ্জ, গাজীপুর সদর ও ঢাকার উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। রাতের দিকে ট্রেনে ঘোড়াশাল ফিরে এলেও নানা অজুহাতে আবারও তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

একপর্যায়ে গভীর রাতে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার দেওপাড়া গ্রামের একটি নির্জন স্থানে ট্রাক থামানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন বান্ধবীকে ট্রাকের ভেতরে আটকে রেখে কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশের ঝোপে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।

পরে কিশোরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্ত সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে তার বান্ধবী বাধা দেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। এরপর ভোরে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হায়াতুর রহমান বলেন, হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক কিশোরীর শারীরিক অবস্থা দেখে ধর্ষণের আশঙ্কা করে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। পরে ভুক্তভোগীর ভগ্নিপতি থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কালীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। আদালতে হাজির করার পর বিচারক অভিযুক্তকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্তব্য (০)





  • company_logo