• সমগ্র বাংলা

বর্ষার শুরুতেই ফরিদপুরে পদ্মার তীব্র ভাঙন: বিলীন শত শত ঘরবাড়ি, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

ফরিদপুর প্রতিনিধি : বর্ষার আগমনী বার্তার সঙ্গেই ফরিদপুরে প্রমত্তা পদ্মার বুকে বিলীন হতে শুরু করেছে নদীপাড়ের মানুষের শেষ সম্বল। ভাঙনের কবলে পড়ে ইতিমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে হাজারো ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। বর্তমানে তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত বসতভিটা, ফসলি জমি, বিদ্যালয় ও মসজিদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ফলে ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটছে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই পদ্মার ভাঙনে নিঃস্ব হয় দুপাড়ের মানুষ। চলতি বছরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বর্ষার শুরুতেই জেলার সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গি এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছর এই এলাকার শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। ভাঙন ঠেকাতে গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক চেষ্টা করলেও, এ বছর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।

ভাঙনের শিকার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা বারবার পদ্মার ভাঙনে পড়ে ভিটেমাটি সব হারিয়েছি। এখন যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তাও নদী কেড়ে নিতে চাইছে। ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ সবই এখন হুমকির মুখে। এগুলো ভেঙে গেলে আমাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না।" নদীপাড়ের মানুষের অভিযোগ—সব হারিয়ে কেউ রেললাইনের বস্তিতে, আবার কেউ আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয় নিচ্ছেন। ভাঙন রোধে সরকার স্থায়ী কোনো বাঁধ বা প্রকল্প গ্রহণ করলে তারা এই চিরস্থায়ী অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতেন।

সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবশ্য ভাঙন মোকাবিলায় আশার বাণী শোনাচ্ছেন। ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, "ভাঙনের খবর আমরা পেয়েছি এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহযোগিতা ও জরুরি সহায়তার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি।"

অন্যদিকে, ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন ভাঙনের ভৌগোলিক কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, "ভাঙন কবলিত এলাকাটি মূলত পলি বেষ্টিত চরাঞ্চল। প্রতি বছর নদীর পানি বাড়লে এখানে ভাঙন দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে নতুন করে বসতি গড়ে উঠেছে। আমরা আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করি। এ বছরও পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

উল্লেখ্য,  সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভাঙন কবলিত এই চরাঞ্চলটি অত্যন্ত উর্বর ও ফসলি জমি সমৃদ্ধ। সরকার যদি এই অঞ্চলটিকে বাঁচাতে কোনো স্থায়ী মেগা প্রকল্প হাতে নেয়, তবে একদিকে যেমন হাজারো মানুষের বসতভিটা রক্ষা পাবে, অন্যদিকে এই অঞ্চলের উৎপাদিত ফসল জেলার খাদ্য চাহিদা পূরণে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারবে।

মন্তব্য (০)





image

বগুড়ায় ‎প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় আ. লীগ নেতা মা...

১

বগুড়া প্রতিনিধি : ‎কারাবন্দী হওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর ...

image

পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

২

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’&...

image

পঞ্চগড়ে অবসরপ্রাপ্ত তিন মউশিক শিক্ষক ও দুই কেয়ারটেকারকে ...

৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক ...

image

বগুড়ায় শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানীর ব্যবস্থা করলেন যুবদল সম...

৪

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় সুলতানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শি...

image

দিনাজপুরে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মাদক ও প্রত্নতত্ত্ব...

৫

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে কর্মরত বিজিবির ২৯ ব্যাটালিয়নে...

  • company_logo