• সমগ্র বাংলা

ব্যতিক্রমী উদ্যোগে গাজীপুরের শ্রেষ্ঠ ইউএনও কালীগঞ্জের এটিএম কামরুল ইসলাম

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

গাজীপুর প্রতিনিধি : সকালের নরম রোদ যখন কালীগঞ্জের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উঠোনে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন ছোট ছোট পায়ে দৌড়াতে থাকা শিশুদের চোখে ছিল নতুন কৌতূহল। আগে যেখানে অনেকেই স্কুলে আসতে অনাগ্রহ দেখাত, সেখানে আজ ক্লাস শুরুর আগেই কৌতূহলী ভিড়-কেননা তাদের কাছে স্কুল এখন আর শুধু বইয়ের ঘর নয়, বরং শেখার এক নতুন পৃথিবী।

এই পরিবর্তনের পেছনে যাঁর নাম ঘুরে ফিরে আসে, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম। প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরেও যিনি নিজেকে যুক্ত করেছেন শিক্ষার মাঠে, শিশুদের হাসি আর ভবিষ্যতের স্বপ্নের সঙ্গে।

কালীগঞ্জের ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গল্প এখন আগের মতো নেই। কোথাও টিফিনের সময় শিশুদের খেলাধুলার শব্দ, কোথাও আবার ক্লাসরুমে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে পাঠ বোঝার চেষ্টা-সব মিলিয়ে এক নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

একসময় যেসব বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল, সেখানেই এখন ফিল্টার বসানো হয়েছে। শিশুদের হাতে এসেছে খেলাধুলার সরঞ্জাম-যাতে তারা শুধু পড়াশোনাতেই নয়, শৈশবের আনন্দেও সমানভাবে বড় হতে পারে।

একদিন হঠাৎ করে একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে বসে বলেন, “শিশুরা যেন ভয় না পেয়ে শিখতে আসে, সেটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।” সেই কথার পর থেকেই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে অনেক বিদ্যালয়ের পরিবেশ।

স্মার্ট বোর্ড, মাল্টিমিডিয়া পাঠদান আর ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার-এসব এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব। শিশুরা এখন অক্ষর শেখে ছবি দেখে, গল্প বোঝে ভিডিওর মাধ্যমে, আর গণিতের সমীকরণ শেখে খেলতে খেলতে।

তবে এই গল্প একেবারে সহজও নয়। কোথাও বিদ্যুৎ নেই ঠিকমতো, কোথাও ইন্টারনেটের ধীরগতি আবার কোথাও শিক্ষকদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম-সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জও কম নয়।

তবুও পরিবর্তনের ধারা থেমে নেই। কারণ প্রতিদিন কোনো না কোনো বিদ্যালয়ে নতুন করে ফুটে উঠছে শিশুদের উপস্থিতির হাসি।

স্থানীয়রা বলছেন, আগে যেসব শিশু স্কুলে আসতে অনীহা দেখাত, এখন তারাই আগে পৌঁছে যায়। অভিভাবকরাও ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছেন-এই পরিবর্তন কেবল অবকাঠামোর নয়, এটি চিন্তারও পরিবর্তন।

এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গাজীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম। তবে তাঁর কাছে এই স্বীকৃতি যতটা না অর্জন, তার চেয়ে বেশি দায়িত্বের নতুন অধ্যায়।

কারণ তাঁর চোখে এখনো স্কুল মানে শুধু ভবন নয়-স্কুল মানে প্রতিটি শিশুর স্বপ্নের প্রথম দরজা।

মন্তব্য (০)





image

বগুড়ায় ‎প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় আ. লীগ নেতা মা...

১

বগুড়া প্রতিনিধি : ‎কারাবন্দী হওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর ...

image

পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

২

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’&...

image

পঞ্চগড়ে অবসরপ্রাপ্ত তিন মউশিক শিক্ষক ও দুই কেয়ারটেকারকে ...

৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক ...

image

বগুড়ায় শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানীর ব্যবস্থা করলেন যুবদল সম...

৪

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় সুলতানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শি...

image

দিনাজপুরে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মাদক ও প্রত্নতত্ত্ব...

৫

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে কর্মরত বিজিবির ২৯ ব্যাটালিয়নে...

  • company_logo