• লিড নিউজ
  • সমগ্র বাংলা

রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা প্রশ্নবিদ্ধ অটোমেশন কার্যকর না হওয়ায় বাড়ছে ক্ষতি

  • Lead News
  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : রাজশাহী ওয়াসার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও তা থেকে প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। পানি উত্তোলক পাম্পগুলোতে অটোমেশন ব্যবস্থা চালু করার পরও সেগুলো চলছে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। এতে বছর বছর বাড়ছে খরচ। ফলে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন পরিচালিত সংস্থাটিতে বাড়ছে লোকসানের পরিমাণ। রাজশাহী ওয়াসা শুধু পানি সরবরাহ খাতে গত কয়েক বছরে ভর্তুকি দিয়েছে শতকোটি টাকার বেশি। জানা গেছে, রাজশাহী ওয়াসা চাহিদার অর্ধেক পরিমাণ পানি সরবরাহ করছে।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে বিপুল টাকা ব্যয়ে অটোমেশন করার পরও কার্যকর হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনাগত ক্রটির কারণে। এছাড়া বিপুল ব্যয়ের পরও নগরবাসীর পানি চাহিদা পূরণ করতে পারছে না ওয়াসা। জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরী এলাকায় পানি সরবরাহে বর্তমানে ওয়াসার ১২১টি উত্তোলক পাম্প সচল আছে। এছাড়া নগরীর শ্যামপুরে পদ্মা নদীর তীরে রয়েছে একটি ভূ-উপরিস্থ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। বিপুল টাকা খরচ করে এই প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। কিন্তু নদীতে পানি ঘাটতির কারণে এই ব্যয়বহুল প্ল্যান্টটি বছরের ৫ মাস সচল থাকে। বাকি সময় অচল থাকে। জানা গেছে, ওয়াসার পানি উত্তোলক পাম্পগুলো পরিচালনার জন্য ১৫৩ লোকবল নিয়োজিত রয়েছে। এসব কর্মচারী ও শ্রমিকের বেতনভাতা বাবদ প্রতি মাসে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এই হিসাবে বছরে খরচ হচ্ছে ৩ কোটি টাকা। পানি উত্তোলক পাম্পে বছরে বিদ্যুৎ বিল আসে ৯ কোটি টাকার। পানি বেচে এই টাকা ওঠে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা গেছে, রাজশাহী ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বছরদুয়েক আগে পানি সরবরাহ ও উত্তোলক পাম্পগুলোকে আধুনিকায়নে ৪ কোটি টাকা ব্যয় করেন। একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়। ফলে পানি উত্তোলক পাম্পগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়। এই অটোমেশন ব্যবস্থা চালু হলেও ওয়াসার পাম্পগুলো এখনো চলছে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। অটোমেশনের আওতায় উত্তোলক পাম্পগুলো ঘরে বসেই বা একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে চালু ও বন্ধ করা, পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, পাম্পের ত্রুটিসহ পুরোটাই পরিচালনা করা সম্ভব। কিন্তু এখনো পাম্পচালকরাই পাম্পগুলো চালু ও বন্ধ করেন পাম্পঘরে বসে। ফলে বিপুল টাকা ব্যয়ে করা অটোমেশনের কোনো সুফল ওয়াসা পাচ্ছে না অথবা নিচ্ছে না। কর্মকর্তারা বলছেন, অটোমেশন চালু করা হলে ১২৫ জন পাম্পচালককে অন্যত্র কাজে নিয়োজিত করা সম্ভব। এতে ওয়াসা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবে, তেমনি উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে রাজশাহী ওয়াসা এই সুফল পাচ্ছে না।

মহানগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা ১৩ কোটি ৪৪ লাখ লিটার। এর মধ্যে ৮ কোটি ৬৫ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা হয় মাটির নিচ থেকে পাম্পের মাধ্যমে। এই পরিমাণ পানির মধ্যে মাত্র ৯০ লাখ লিটার পরিশোধন করতে পারে রাজশাহী ওয়াসা। বাকি পানি মাটির নিচ থেকে তুলে সরাসরি গ্রাহকের ঘরে দেওয়া হয়। রাজশাহী মহানগরীতে ওয়াসার নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৫৩ হাজারের কিছু বেশি। তবে অবৈধ গ্রাহকের সংখ্যাও ৩৫ হাজারের বেশি। পানি সরবরাহ পাইপ লাইনের দৈর্ঘ্য ৮৬০ কিলোমিটার। প্রতিলিটার পানি উত্তোলন ও সরবরাহে ওয়াসার খরচ হয় ৪ টাকা ৫৬ পয়সা। কিন্তু ওয়াসা বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে ২ টাকা ২৭ পয়সা লিটারে আবাসিক গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে। অন্যদিকে রাজশাহীতে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৪ টাকা ৫৪ পয়সা লিটার করে পানির দাম দিতে হয়। রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, অটোমেশনের বিষয়টি যেহেতু রাজশাহী ওয়াসায় নতুন। ফলে দক্ষ লোকবল নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি কাটিয়ে তোলা সম্ভব হবে এবং অপ্রয়োজনীয় লোকবল কমানো যাবে। এতে ব্যয় সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন তিনি।

মন্তব্য (০)





image

বগুড়ায় ‎প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় আ. লীগ নেতা মা...

১

বগুড়া প্রতিনিধি : ‎কারাবন্দী হওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর ...

image

পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

২

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’&...

image

পঞ্চগড়ে অবসরপ্রাপ্ত তিন মউশিক শিক্ষক ও দুই কেয়ারটেকারকে ...

৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক ...

image

বগুড়ায় শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানীর ব্যবস্থা করলেন যুবদল সম...

৪

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় সুলতানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শি...

image

দিনাজপুরে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মাদক ও প্রত্নতত্ত্ব...

৫

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে কর্মরত বিজিবির ২৯ ব্যাটালিয়নে...

  • company_logo