• সমগ্র বাংলা

ঝিনাইদহ পৌরসভার তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী ক্যাশিয়ার জহুরুলের দুর্নীতি পাহাড়

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ পৌরসভার ক্যাশিয়ার মোঃ জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মচারিদের জিম্মি করে তার দোকানে কেনাকাটা করতে বাধ্য করসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, জহুরুল ইসলাম একজন ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চনপুর এলাকায় একটি বিলাসবহুল দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের ও বেনামে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং ডিপিএস রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের ভয়ে তিনি তার বিলাসবহুল বাড়িটি এখনো রেজিস্ট্রি করেননি বলেও জানা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জহুরুল ইসলাম সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর নাম ভাঙিয়ে এবং তাকে ভুল বুঝিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) তহবিল থেকে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিজের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। এ ছাড়া পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স ও দোকান ভাড়ার প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা পৌর তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পৌরসভার কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন যে, জহুরুল ইসলাম অধিকাংশ কর্মচারীর বেতনের চেক বই নিজের দখলে রাখেন এবং তাদের নগদ বেতন গ্রহণে বাধ্য করেন। তার নিজস্ব দোকান থেকে বাজার করতে কর্মচারীদের বাধ্য করা হয় এবং বেতন থেকে জোরপূর্বক বকেয়া টাকা কেটে নেওয়া হয়। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেও তিনি চরম অসদাচরণ করেন এবং একাধিকবার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে ।

 

বিগত সরকারের পতনের পর নিজের কুকর্ম ঢাকতে জহুরুল ইসলাম বর্তমানে ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করছেন। অফিসের গোপনীয় তথ্য বাইরে পাচার করা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কল রেকর্ড ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এমনকি নিজের অপরাধ আড়াল করতে জুলাই যোদ্ধাদের ভুল বুঝিয়ে অফিসে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাও করেছেন তিনি।পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, জহুরুল ইসলাম নিজেকে পৌরসভার ‘দ্বিতীয় মেয়র’ হিসেবে জাহির করতেন এবং তার মতের বিরুদ্ধে গেলেই হেনস্থার শিকার হতে হতো। তারা অবৈধ সম্পদের আয়ের উৎস তদন্তপূর্বক তাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য দুদক চেয়ারম্যানের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগের অনুলিপি খুলনার স্থানীয় সরকার পরিচালক এবং ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে শুক্রবার জানান, তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। পৌরসভার কর্মচারিদের মাঝে গ্রুপিং থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে দুদকে এই অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার কোন দোকান নেই। আমি কোন দুর্নীতিও করি না। ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথিন্দ্রনাথ রায় শুক্রবার বিকালে জানান, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি হয়েও তার আচার আচরণ সন্তোষজনক নয়, এ কারণে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

মন্তব্য (০)





image

দিনাজপুরের রুদ্রাণী সীমান্তে ৮৩ হাজার টাকা মূল্যের যৌন উত...

১

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের রুদ্রাণী সীমান্তে ৮৩ হাজ...

image

বগুড়ায় ‎প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় আ. লীগ নেতা মা...

২

বগুড়া প্রতিনিধি : ‎কারাবন্দী হওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর ...

image

পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’&...

image

পঞ্চগড়ে অবসরপ্রাপ্ত তিন মউশিক শিক্ষক ও দুই কেয়ারটেকারকে ...

৪

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক ...

image

বগুড়ায় শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানীর ব্যবস্থা করলেন যুবদল সম...

৫

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় সুলতানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শি...

  • company_logo