নিউজ ডেস্কঃ ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে এরই মধ্যে ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে নিম্ন আয়ের মানুষের। সরকারি মাসিক অর্থসহায়তায় ভর করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এর মাধ্যমে চলতি অর্থবছরেই ৪০ লাখ ২০ হাজার নারীর হাতে পৌঁছাবে এই সহায়তা। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের হাতে কার্ড পৌঁছানোই এখন সরকারের লক্ষ্য।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি ছিল ফ্যামিলি কার্ড। নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে এই উদ্যোগ দেশজুড়ে আশার সঞ্চার করে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ের পর শুরুতেই ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয় তারেক রহমানের সরকার।
চলতি বছরের ১০ মার্চ ঢাকার বনানীতে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে এরই মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের জীবনে। কড়াইল বস্তির ফরিদা ও রাহেলাদের ঘরে বইছে আনন্দের জোয়ার। মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অর্থসহায়তা পেয়ে নিত্যদিনের খরচ মেটানোর পাশাপাশি ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।
একজন সুবিধাভোগী বলেন, মেয়েদের জন্য সুযোগ-সুবিধা আর কী, সংসারে অভাব থাকলে একটু খরচ হয়। আগে মাকে ওষুধ খাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা করে দিতাম। এখন ১ হাজার ৫০০ টাকা দেই। এই সহায়তা পাওয়ার পর কতটা উপকার হয়েছে, তা ভাষায় বলা সম্ভব নয়। গরিব মানুষের জন্য এমন উদ্যোগ নেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ।
তবে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকার বাইরে থাকা অনেক পরিবার এখনও অপেক্ষায়। কেউ আবার কার্ড পেলেও নিয়মিত অর্থসহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। একজন অভিযোগকারী বলেন, কাগজপত্র নিয়ে অফিসে যাওয়ার পর সেখান থেকে এন্ট্রি করে বাদ দেয়া হয়েছে। কাগজপত্র জমা নেয়ার পরও কার্ড পাইনি। আরেকজন অভিযোগ করেন, কয়েক মাস পাওয়ার পর গত মাসে আর টাকা পাইনি। চলতি মাসেও এখনো সহায়তা পাইনি।
ফ্যামিলি কার্ডের নিয়মিত অর্থসহায়তায় নিম্নআয়ের মানুষের নিত্যদিনের খরচ মেটানোর পাশাপাশি কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপনের স্বপ্নও তৈরি হয়েছে। তবে এখনও অনেক পরিবার এই সুবিধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আশার খবর হলো, এবার শুরু হচ্ছে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে এর উদ্বোধন করবেন সরকার প্রধান। চলতি অর্থবছরে ৪০ লাখ ২০ হাজার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে সারাদেশে শুমারি করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ। মানুষের আগ্রহ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে সরকার আরও সচেতন হয়েছে।
দলীয় পরিচয় নয়, প্রকৃত যোগ্যতার ভিত্তিতেই ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হচ্ছে বলেও জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সবার জন্য। সরকারের সব ধরনের সুবিধা পাওয়ার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। সেই নীতিতেই সরকার কাজ করছে।
পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে এরই মধ্যে ৮০ হাজার নারীর হাতে পৌঁছেছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা। আগামী চার বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
মন্তব্য (০)