• সমগ্র বাংলা

কাঁচামাটিয়া নদী মশা উৎপাদনের অভয়াশ্রম, মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জনজীবন

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রমত্তা কাঁচামাটিয়া নদী দখল, দূষণ আর কচুরিপানার জঞ্জালে এখন নাগরিক জীবনের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ নদীটি এখন মশা উৎপাদনের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর বুকে জমে থাকা কচুরিপানার কারণে মশার বংশবিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে নদী তীরবর্তী হাজারো মানুষ দিনরাত মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার আবেদন জানিয়েও নদী পরিষ্কার বা মশা নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ ব্রিজ থেকে পশ্চিমে থানা পর্যন্ত নদীর বুকজুড়ে এখন পানির বদলে কেবল কচুরিপানার স্তূপ। এই স্থির পচা পানি আর কচুরিপানা এখন মশার অভয়াশ্রম। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামা তো দূরের কথা, দিন রাত ২৪ ঘণ্টা মশার কামড়ে ঘরে টেকাই দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা শোচনীয়।

নদীর পাড়ের বাসিন্দা ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই নদীর মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তারা। সন্ধ্যা নামলেই মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করে। তিনি বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে শহরের পাকা রাস্তার পাশে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধনের ধোঁয়া ছড়ানো হয়। কিন্তু যেখানে মশার মূল উৎপত্তিস্থল, সেই নদী পাড়ে কখনো মশা নিরোধক ওষুধ ছিটানো বা ফগার মেশিন ব্যবহার করা হয় না। আমরা কি কেবল ট্যাক্স দেওয়ার জন্য? আমাদের কষ্টের কথা শোনার কি কেউ নেই?

স্থানীয় বাসিন্দা শামছুল ইসলাম ভুঁইয়া আক্ষেপ করে জানান, কাঁচামাটিয়া নদীটি উপজেলার উচাখিলা, তারুন্দিয়া, বড়হিত, ঈশ্বরগঞ্জ, সোহাগী ও জাটিয়া এই ছয়টি ইউনিয়নের বুক চিরে প্রবাহিত। সত্তরের দশকে নদীটিতে ছিল বিশাল জলরাশি এবং মৎস্যসম্পদে ছিল ভরপুর। সে সময় জীবিকা নির্বাহের জন্য এই নদী ছিল এ অঞ্চলের মানুষের আশীর্বাদ স্বরূপ। অথচ আজ মানবসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা আর দখলের কারণে নদীটি মৃতপ্রায়। স্রোত না থাকায় কচুরিপানার বিশাল জটলার কারণে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

তিনি আরও বলেন, নদীটি যখন বহমান ছিল তখন প্রবল স্রোতের কারণে বিভিন্ন স্থানে গভীর জলাধারের সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে সেই স্থানগুলোতে জন্মেছে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা, যা পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী নদীপাড়ের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের দাবি, লোক দেখানো ফগার মেশিন চালানো বন্ধ করে দ্রুত নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করা হোক এবং নদীটি খনন করে এর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়া হোক। একটি নদী মরে যাওয়ার সাথে সাথে একটি জনপদ কীভাবে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে, তার নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে আছে কাঁচামাটিয়া নদীর কচুরিপানা।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, নদীর কচুরিপানা পরিষ্কারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান জানান, কাঁচা মাটিয়া নদীর জঞ্জাল কচুরিপানা অপসারণের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। অবিলম্বে স্থানীয় বাসিন্দারা দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখতে পাবে এবং মশার উপদ্রবের হাত থেকে রেহাই পাবে বলে আশা করছি।

মন্তব্য (০)





image

পাটকল থেকে ইপিজেড, ক্ষতির চেয়ে লাভের পাল্লা ভারি

নিউজ ডেস্ক : আদমজী জুট মিল বন্ধের ২৪তম বছর আজ। ২০০২ সালের এই...

image

ফরিদপুরের সদরপুরে কাশবনে মিলল নিখোঁজ শিশুর গলিত লাশ, ক্ষু...

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সদরপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর আড়ি...

image

পাবনায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে বাসের ধাক্কায় শাহীন শ...

image

ফেনীতে গৃহবধূ কাজল হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী যুবক গ্রেফতার

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর ফুলগাজীতে গৃহবধূ বিবি কুলসুম কাজল (৩৭)...

image

‎বদলে গেলো ৪ কলেজের নাম, দুটির নামকরণে শহীদ জিয়াউর রহমান

নিউজ ডেস্কঃ সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে দেশের...

  • company_logo