আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলায় ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে বিশ্বকে প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দিলো ইরান। এমনকি হরমুজ প্রণালি দিয়ে শত্রুদের এক লিটার তেলও পার হতে দেবে না বলে হুমকিও দিয়েছে তেহরান। বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহের ঘোষণা দিলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে তেল কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে হরমুজ প্রণালি। তেহরানের বিরুদ্ধে হুমকি ও হামলা অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলতো বটেই; তাদের অংশীদারদের তেলবাহী জাহাজেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ক্রমেই ঝুঁকি বাড়ছে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহকরী নৌ-রুটে।
ইরানের দাবি, আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে জ্বালানির দাম। আর সেই নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল অস্থিতিশীল করে তোলায় শত্রু নিধনে লড়াই করছে তারা। এই যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ওয়াশিংটন-তেল আবিব এবং তাদের মিত্রদের এক লিটার তেলও পার হতে না দেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাবে বলে বিশ্বকে প্রস্তুত থাকা কড়া বার্তাও দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকরি বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছি, যদি অঞ্চল জুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেল ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর তেলের দাম নির্ভরশীল। আর সেই নিরাপত্তাহীনতার উৎস হয়ে ওঠেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। তাই ওয়াশিংটন ও তেল আবিব সংশ্লিষ্ট যেকোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে ১৯৭০-এর দশকের পর এত বড় জ্বালানি সংকট আর কখনোই দেখেনি বিশ্ব। যার কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নিজেদের কৌশলগত মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা- আই.ই.এ। যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২০ দিন রপ্তানি করা তেলের সম-পরিমাণ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি করা ২০ দিনের সমতুল্য বা কমবেশি ৪০০ মিলিয়ন বা ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই ঘোষণার ৭০ শতাংশই প্রতিনিধিত্ব করে জি-সেভেন জোট।
পেন্টাগন হরমুজ প্রণালির দিয়ে জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করার উপায় খুঁজছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। এরইমধ্যে হরমুজ প্রণালির তলদেশে ইরান মাইন পুতে রেখেছে কি-না তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংসের দাবি করে সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় তাদের এই পথ সরাসরি ব্যবহার করা উচিত। কারণ আমরা এক রাতে তাদের প্রায় সব মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করে ফেলেছি।
তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কায় পতনের মুখোমুখি এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজার। এভাবে চলতে থাকলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার ব্যাপারে শঙ্কা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের।
মন্তব্য (০)