ছবিঃ সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় দীর্ঘ প্রায় ২৩ মাস ধরে অমানবিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল; হামাস উৎখাত ও জিম্মি মুক্তির নাম দিয়ে প্রতিদিনই ভয়াবহ হামলা ও নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে নিরীহ গাজাবাসীর ওপর। দখলদার বাহিনীর নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহীন একটি দিন পার করতে পারেনি ভূখণ্ডটির বাসিন্দারা।
সম্প্রতি গাজা দখলের পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়ার পর তাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়ে যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ব্যাপকভাবে বেড়েছে হামলার তীব্রতা। ইসরায়েলি বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না গাজার ক্ষুধানিপীড়িত ত্রাণপ্রার্থীরাও।
ভূখণ্ডটিতে গতকাল সারাদিনে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় শিশু ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৭৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিহতদের মধ্যে ৩২ জনই খাদ্য সহায়তাপ্রার্থী।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণে জোরপূর্বক সরিয়ে দিতে অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। রোববার ভোর থেকে সারা গাজা উপত্যকায় অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ৩২ জন খাদ্য সংগ্রহে বের হয়েছিলেন।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানায়, রোববার ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে আল-কুদস হাসপাতালের কাছে তাঁবুতে আগুন ধরে যায়। রিমাল এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও তিনজন আহত হন।
এদিকে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা অভিযোগ করেন, আবাসিক এলাকায় ‘বিস্ফোরক রোবট’ ব্যবহার করছে ইসরায়েলি সেনারা। তিনি জানান, গত তিন সপ্তাহে অন্তত ৮০টি বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
মূলত, গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা সফল করতে আগস্টের শুরু থেকেই শরটিতে নিরবচ্ছিন্ন গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। গত শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তারা শহরটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করে এবং নতুন আক্রমণ শুরুর কথা জানায়।
আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ রোববার জানান, নিরবচ্ছিন্ন গোলাবর্ষণ ও বুলডোজার দিয়ে আবাসিক এলাকা ধ্বংস করে গাজা সিটিকে ‘ধ্বংসস্তূপের মাঠে’ পরিণত করছে ইসরায়েল। তিনি বলেন, ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। মানুষ পালাতেও পারছে না, কারণ কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই।
রোববার (৩১ আগস্ট) ইসরায়েলি হামলায় আরও এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আল-কুদস আল-ইয়াওম টিভির সাংবাদিক ইসলাম আবেদকে গাজা সিটিতে হত্যা করা হয় এদিন।
গাজার গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৩ হাজার ৪৫৯ জন নিহত ও ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে ২৪৭ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন ভূখণ্ডটিতে। অন্য আরেক হিসাবে এই সংখ্যা ২৭০ জনেরও বেশি। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন, এর মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন সাংবাদিক।
নিউজ ডেস্ক : তামাক পণ্যের বিশ্বখ্যাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরি...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে...
নিউজ ডেস্ক : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ...
নিউজ ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি মার...
নিউজ ডেস্ক : তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ। গত ২১ জুন থেকে এ পর্...

মন্তব্য (০)