ছবিঃ সিএনআই
নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলায় আলুসহ আগাম শীতকালীন সবজি চাষের এই মৌসুমে সার ও কীটনাশক সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, খোলা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। মানসম্মত কীটনাশকের ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
চাষিরা বলছেন, জেলার কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার চাওয়া হলে বরাদ্দ সংকট বা মজুত শেষ হওয়ার অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। অথচ অসাধু ব্যবসায়ী ও সাব-ডিলারদের গুদামে বস্তা বস্তা ডিএপি, টিএসপি ও ইউরিয়া সার অবৈধভাবে মজুত রয়েছে।
জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন, সরকারি দামে প্রতি কেজি ইউরিয়া ও টিএসপি সার ২৭ টাকা দরে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ১,৩৫০ টাকা, ডিএপি সার ২১ টাকা দরে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ১,০৫০ টাকা এবং এমওপি সার প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ১,০০০ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু খুচরা বাজার থেকে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রসিদ ছাড়াই চড়া দামে সার বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
একই এলাকার জোবাইদুল হক বলেন, ‘তিন দিন চেষ্টার পর সার পেয়েছি, তাও চাহিদার তুলনায় কম। এভাবে কী চাষাবাদ করা যাবে? এত দাম দিয়ে সার কিনে পরে ফসলের দাম পাই না।'
এদিকে শীতকালীন সবজি চাষের ক্ষেত্রে চারার সুরক্ষায় নিয়মিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হয়। কৃষকদের কারও কারও অভিযোগ, বাজারের দোকানে প্রয়োজনীয় কীটনাশকের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। পরিচিত ব্র্যান্ডের মানসম্মত কীটনাশকের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে শতকরা ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে নিম্নমানের ও ভেজাল কীটনাশকের বিস্তারও বেড়েছে, যেগুলো স্প্রে করেও পোকা দমন করা যাচ্ছে না।
কিশোরগঞ্জের আলু চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমন ধান কাটার পরই আগাম আলুর বীজ রোপণ করতে হয়। জমিতে সার দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময় অথচ বাজারে সার পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দাম দিয়ে সার ও ওষুধ কিনতে গিয়ে বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায় ঠেকছে।'
তিনি বলেন, জাতভেদে ভালো মানের বীজ ক্রয়েই সর্বোচ্চ ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা খরচ হয়। এছাড়া সার ব্যবহারে ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা, জমি প্রস্তুত ও সেচে ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা এবং কীটনাশক ও পরিচর্যায় ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা ব্যয় হয়। অন্যদিকে, রোপণ থেকে শুরু করে আলু তোলা ও বস্তাবন্দি পর্যন্ত শ্রমিক খরচ লাগে ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। এভাবে খরচ বাড়লে আমরা লাভের মুখ দেখতে পারব না।’
আরেক সবজি চাষি মজনু মিয়া বলেন, ‘কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখা হয়েছে। আমরা ন্যায্যমূল্যে সার চাই। নইলে পরবর্তীতে বাজারে সবজি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে যাবে, দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।’
অবৈধভাবে সার মজুত ও দাম বেশি রাখার অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে একাধিক পয়েন্টে অভিযান চালিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, জেলায় সরকারিভাবে সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতাম...
বগুড়া প্রতিনিধি : "হামাগেরে নাতনী জাইমাক আল্লাহ ম্...
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ ও ভারতকে চোরের দেশ বলে মন্তব...
কিশোরগঞ্জ কিশোপ্রতিনিধিঃ রগঞ্জের হোসেনপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে...
বগুড়া প্রতিনিধিঃ প্রধানমন্ত্রী কণ্যা ব্যারিস্টার জাইমা ...

মন্তব্য (০)