আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিটি আগের ধারণার চেয়ে ‘অনেকটা অন্যরকম’ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তিনদিনের সরকারি সফরে ভারতে রয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে এই সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার বৈঠকের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ভারত একটি চুক্তি করতে চায় এবং দুই দেশ চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে।
চুক্তিটি ‘অনেক ভিন্ন ধরনের’ হতে পারে বললেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প।
বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদী রুবিও
ভারত সফরে পৌঁছে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার তিনি বলেন, দুই দেশ চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি রয়েছে।
রুবিও বলেন, চুক্তির অল্প কয়েকটি বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা বাকি। সেগুলোও শিগগির সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি।
চুক্তি নিয়ে শিগগিরই ভালো খবর আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রুবিও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যতটা কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব, দুই দেশ এখন প্রায় সেই অবস্থানে রয়েছে।
তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সরাসরি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করে না। যদিও এ বিষয়ে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন রুবিও। সেখানে তিনি ভারতকে জ্বালানি বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার পরিমাণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
এর আগে গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সমাধান হয়েছে। দুই দেশ চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি রয়েছে।
ভারত সফরের আগে উজবেকিস্তানের সমরকন্দে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে দুই দেশ খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ছাড় দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়।
এর আগে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ স্থগিত করেন ট্রাম্প। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত মার্কিন আইনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতার ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখার কথা ছিল। ভারতও ওই ক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ স্থগিত হওয়া মানে তা পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে।
প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত হয়েছে। এখন চলছে আইনি ভাষা ও শর্তাবলি চূড়ান্ত করার কাজ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর চুক্তিটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে চুক্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্য প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় ভারত যেন প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানান তিনি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
মন্তব্য (০)