জামালপুর প্রতিনিধি: দীর্ঘ শিক্ষকতা, একাডেমিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, জামালপুরের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক মো. আব্দুল বার্সেদ। এর মধ্য দিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর এবার তিনি প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ একাডেমিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বে আসীন হলেন।
তাঁর কর্মজীবনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ২৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি জেলা সদরের ৪টি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৭ সালে শেরপুরের শ্রীবরদীর গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে ১৯৯২ সালে উদ্ভিদবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) ১ম শ্রেণিতে ২য় স্থান এবং ১৯৯৩ সালে এমএস-সি (থিসিস) ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অর্জন করেন; উভয় পরীক্ষায় শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি গাইবান্ধা সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় ৯ বছর ৮ মাস শিক্ষকতা করার পর ২০০৮ সালে একই কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি যোগ দেন তাঁর পরিচিত প্রতিষ্ঠান সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, জামালপুরে, যেখানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে প্রায় ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি শুধু নিয়মিত পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি নওগাঁ সরকারি কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে প্রায় ০১ বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি আবার সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ফিরে আসেন। সেখানে আরও প্রায় সাড়ে ০৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মার্চে পদোন্নতি পেয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অর্থাৎ আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষকতা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক—তিনটি পদে প্রায় ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক পরিবেশ ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার প্রমাণ বহন করে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিনি সরকারি হাজী জাল মামুদ কলেজ, নকলা, শেরপুরের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রায় ০২ বছর ১০ মাস প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেন।
সেখানে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তিনি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, জামালপুরের অধ্যক্ষ হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর কর্মজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, একাডেমিক মানোন্নয়ন কমিটির সদস্য, রুটিন কমিটির দায়িত্বশীল সদস্য, ডিজিটাল টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।
ফলে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান থেকে শুরু করে বিভাগ পরিচালনা, একাডেমিক পরিকল্পনা, রুটিন ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল কার্যক্রম এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্রয় প্রক্রিয়াসহ কলেজ পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিশেষ করে যে প্রতিষ্ঠানে তিনি দীর্ঘ সময় শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের দায়িত্বে ফিরে আসা তাঁর বর্তমান নিয়োগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি যে প্রতিষ্ঠানকে কাছ থেকে দেখেছেন, এবার সেই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক নেতৃত্বে থেকে শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, একাডেমিক শৃঙ্খলা জোরদার করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে ইতিবাচক সমন্বয় তৈরি করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করার সুযোগ পাচ্ছেন।
তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে একই প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভাগীয় কার্যক্রম ও প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পর্কে পূর্বপরিচিতি থাকায় নতুন দায়িত্ব পালনে সেই অভিজ্ঞতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা—অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে কলেজের শিক্ষার মান, একাডেমিক পরিবেশ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আরও কার্যকর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষা-পরিবেশ নিশ্চিত করা।
অধ্যাপক মো. আব্দুল বার্সেদের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ তাই শুধু একজন শিক্ষকের পদোন্নতি নয়; বরং দীর্ঘ শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে ফিরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
মন্তব্য (০)