ছবিঃ সংগৃহীত
ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৪) হত্যাকাণ্ডের জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রতিপক্ষের পুরুষ ও নারী সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় এসব ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় এই ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাট চললেও তা ঠেকাতে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যায় বড়ভাগ গ্রামের পূর্বপাড়ায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলায় নিহত হন কলেজছাত্র সুমন শেখ। তিনি বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছোট ছেলে এবং কাশিয়ানী উপজেলার এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের দিন গত ২৬ জুন রাতেই প্রথম দফায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় উকিল শেখের বাড়ি। এরপর গত ২৭ জুন নিহতের ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২৯ জুন সন্ধ্যায় আলফাডাঙ্গা থানার সামনে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই মানববন্ধনের পর থেকেই বড়ভাগ গ্রামের বিভিন্ন মহল্লায় প্রতিপক্ষের অন্তত ১০টি বাড়িতে সুপরিকল্পিতভাবে ধারাবাহিক হামলা ও ভাঙচুর শুরু হয়।
সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখ ও তার ছেলে হুসেন শেখের একটি একতলা পাকা ও একটি সেমিপাকা ভবনসহ আসবাবপত্র সম্পূর্ণ ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, জনতা জড়ো করে (মব সৃষ্টি) এ পর্যন্ত তিন দফায় এসব বাড়িতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। ২৬ জুনের পর থেকেই প্রতিপক্ষের পরিবারগুলো ঘরবাড়ি ফেলে এক কাপড়ে এলাকা ছাড়া। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের ভাই শামীম শেখ বলেন, "হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পার হয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত মাত্র একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ। বাকি আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।"
প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলার বিষয়ে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, "হামলা-ভাঙচুরের সাথে আমরা জড়িত নই। তবে ওই গ্রামে এমন কোনো পরিবার নেই যারা তাদের (প্রতিপক্ষ) দ্বারা অতীতে নির্যাতনের শিকার হননি।"
সার্বিক বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম জানান, ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়েরের পর পুলিশ ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিপক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত মামলা বা অভিযোগ করেনি। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।"
ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে নিখোঁজের দুইদিন পর হাত-পা বাঁধা ...
নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিয়ে শেষে কনে নিয়...
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরের করজগ্রাম এলাকার আলোচিত মাদ...
কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার খে...
পাবনা প্রতিনিধিঃ একটি বিদেশী রিভালবার ও ২ রাউন্ড কার্তুজসহ এ...

মন্তব্য (০)