রংপুর ব্যুরো : জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগর ও জেলা।
আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নগরীর দর্শনা এলাকার ‘পল্লী নিবাসে’ দোয়া মাহফিল, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, স্মরণসভা, মিলাদ,কবর জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হবে। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা জি এম কাদের।
সোমবার (১৩জুলাই)সকালে জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগর শাখা প্রকাশিত কর্মসূচিতে জানানো হয়,সকাল ৯টায় পল্লী নিবাসে স্মরণসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।এরপর বেলা ১১টায় পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলটির কেন্দ্রীয়, জেলা, মহানগর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, পল্লী জনপদের অগ্রগতি, উপজেলা ব্যবস্থা, সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ খাতে অবদানের জন্য পল্লীবন্ধু এরশাদকে স্মরণ করতেই এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে তাঁর ভূমিকা এখনো মানুষের কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
জাতীয় পার্টির নেতারা বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও রংপুরের উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাকে স্মরণ নয়, বরং তাঁর উন্নয়ন দর্শন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য। তাঁদের বিশ্বাস, মৃত্যুবার্ষিকীর এ আয়োজন দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও পল্লীবন্ধুর স্মৃতিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।
রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, পল্লীবন্ধু শুধু জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি রংপুরবাসীর আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক।তাঁর নেতৃত্বে রংপুরে যে উন্নয়নের ভিত গড়ে উঠেছিল, তা আজও মানুষ স্মরণ করে।তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ ও উন্নয়ন ভাবনাকে তুলে ধরতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় পার্টির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানাই, সবাই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পল্লীবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করুন এবং তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন।”
রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াহিয়া বলেন, “সব কর্মসূচি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করা হবে। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন বলে আমরা আশা করছি।”
রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু বলেন, “পল্লীবন্ধু এরশাদ রংপুরের মানুষের হৃদয়ের নেতা। তাঁর সময়ে রংপুরে যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছিল, তা আজও মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জেলার প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, “পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়ন দর্শন আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পল্লী জনপদের অগ্রগতি এবং রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর যে অবদান, তা মানুষ কখনো ভুলবে না। তাঁর আদর্শ ধারণ করেই জাতীয় পার্টি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং দেশবাসীকে তাঁর জন্য দোয়া করার আহ্বান জানাই।
মন্তব্য (০)