চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এম’পি বলেন, বন্যা পরবর্তী বন্যায় কবলিত দের পুনর্বাসন করা হবে,আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পক্ষ হতে বর্নার্তদের পাশে দাড়াতে এসেছি,প্রধান মন্ত্রী আপনাদের প্রতি সহানুভুতিশীল। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে খাবার নিয়ে এসেছি,সকলের কাছে এ খাবার পৌছে যাবে। শুধু খাবার নয়,বন্যায় যাদের ঘরবাড়ী নষ্ট,বিধ্বস্থ হয়েছে,গবাধি পশুর ক্ষতি হয়েছে,ফসল নষ্ট হয়েছে,তাদের এসব পোষাতে সরকার সব সময় অংগিকারাবদ্ধ। আপনার মহান রব্বুল আলমমীনের কাছে দোয়া করেন মুসলমান ছাড়া ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা নিজ সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেনে যাতে বন্যা পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়।
মন্ত্রী আজ ১৩ জুলাই দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা কবলিত এলাকা সাতকানিয়ায় বন্যার্থদের মাঝে সমবেদনা প্রকাশকালে এসব কথা বলেন।
এ সময় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এম’পি জসিম উদ্দিন আহমদ,জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, পুলিশ সুপার চট্টগ্রাম মো: মাসুদ আলম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া ও সাতকানিয়া বিএনপি সংসদ সদস্য প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা, কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বন্যার্তদের আশ্বস্থ করেন। বাশখালী ও সাতকানিয়ার বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সাতকানিয়ায় ফোরকান নামের একজন দিন মজুরের লাশ সহ ২টি লাশ দাপনের সুযোগ না পেয়ে অথৈ পানিতে ভেলায় ভাসিয়ে দেয়ার দৃশ্য সবার নজর কেড়েছে। এই যে এক হদয় বিদারক দৃশ্য। বাঁশ ও কলা গাছের বেলায় ভাসিয়ে দেয়া লাশ, যা এক অজানা পথের যেন অন্তিম পাড়ি। নিজ পরিবারের পক্ষে কোথায় তার কবরে গিয়ে জেয়ারত করবে তাদের কোন হদিস মিলবেনা।
সাতকানিয়ার ১৭ ইউনিয়নে পানি আর পানি, কোথাও কুল কিনারা নেই। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার শঙ্খ নদীতে পাহাড়ীয়া ঢল ও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ী। পরিস্থিতি এমন যে,সকালে যে বাড়ী দেখা গিয়েছিল, বিকেলে তা আর নেই, যা শংখের বুকে তলিয়ে যাচ্ছে। এদিকে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এম’পি আলহাজ জসিম উদ্দিন আহমদ ৩য় দিনের মত তার নির্বাচনী এলাকায় ৩০হাজার ও আংশিক সাতকানিয়ায় ২০হাজার পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান সামগ্রী উপহার বিলি করে যাচ্ছেন, এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:আবদুররহমান,সহকারী কমিশনার (ভুমি)ঝন্টু বিকাশ চাকমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম, উপজেলা পিআই ও শাওন সহ উপজেলা ও ২ পৌরসভার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মী সাথে ছিলেন।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদত হোসেন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও সহযোগিতা প্রদান করেন। অন্যদিকে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া-চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এম,পি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী ও বি,এন পি নেতা নাজমুল মোস্তফা আমিন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে সহযোগিতা করেন। অন্যদিকে বাশঁখালী উপজেলায় বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এম’পি সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্ধ বাশঁখালী ,আনোয়ারার বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন সহযোগিতা ছাড়া ও চট্টগ্রাম-১৬ বাশঁখালী এম পি মাওলানা জহিরুল ইসলাম নিজ নির্বাচনী এলাকায় এবং চট্টগ্রাম-১৩ পটিয়া আসনের এম পি এনামুল হক এনাম ঢেউ টিন ও নগদ টাকা বিতরন করেন।তাছাড়া
লোহাগাড়া বি,এন পি নেতা ফৌজুল কবির ফজলু সহ নেতা কর্মীগন ও বন্যা কবলিত পরিবারের প্রতি সাহায্য অব্যাহত রেখেছেন।
অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব:)অলি আহমদের পক্ষে নির্বাচনী এলাকায় ত্রান সামগ্রী বিতরন করা হয়।সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কম্পলেকস চট্টগ্রামের মেডিকেল টিম ভুমিকা পালন করেন ,এতে নেতৃত্ব দেন ডা: আমিত দে,তাছাড়া সেনাবাহিনীর টিম ও বন্যার্তদের মাঝে সাহায্য অব্যাহত রাখেছেন।চন্দনাইশ সমিতি, সাতকানিয়া ষ্টুডেন্ট ফোরাম,লায়ন রফিকুল ইসলাম ,আলহাজ আবুল কাশেম লেদু চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন,স্থানীয় ইসলামী ছাত্র শিবির,জামায়ত ইসলামী,ইসলামী ফ্রন্ট সহ বিভিন্ন সংগঠন ছাড়া পটিয়া জমিরিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি একরাম হোসাইনের নেতৃত্বে ত্রান সহযোগিতা প্রদান করা হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সাহাঙ্যে এগিয়ে এসেছেন। এদিকে সাতকানিয়ায় চরতিতে সাইদ(১৭) নামের এক বালক মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ভেসে প্রান হারায়।সাতকানিয়া ইউ,এন ও মাহমুদুল হাসান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ বার্তা প্রদান করেন। চকরিয়ায় বন্যার পানিতে পটিয়া উপজেলার জমিরিয়া মাদ্রাসার ছাত্র আতাউল্লাহ (১৭)প্রাণ হারায়। তাছাড়া চকরিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের উ:বিনিমারায় বন্যার পানিতে ডুবে ১৭ মাস বয়সী হাসান ও সুজিত দাশ(১২) নামের শিশু মৃত্যুবরন করে, অন্য দিকে বিষাক্ত সাপের ছোবলে ধংসিত হয়ে ৮৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকি’সাধীন আছেন বলে জানা গেছে।এদিকে সাতকানিয়ায় ছেলের কবর রক্ষায় বাবা প্রানপন প্রচেষ্টা ও যেন নজর কাড়ে। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন গৃহহারা ৩শ পরিবারের জন্য ২কক্ষ বিশিষ্ট ইন্ডাষ্ট্রিয়াল টিনের নতুন পাকা ঘর দেবে বলে জানা গেছে।
বাশঁখালীর প্রবীন আলেমে দ্বীন ও বুজর্গ হিসাবে খ্যাত আলহাজ শাহ মাওলানা মুহাম্মদ ইছহাক এ দুর্যোগপুর্ন মুহুর্তে ধনী ও বৃত্তবানদেরকে বন্যায় কবলিতদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহবান জানান।তবে আজ ১৩ জুলাই সকাল থেকে বৃষ্টি কমলে ও নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে, শংখ নদী সহ দ: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, লোহাগাড়া, বাশঁখালী সহ উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় চতুরদিকে পানি আর পানি। প্রহর গুনছে কবে বন্যার কবল থেকে মুক্তি পাবে বানবাসী মানুষ।
মন্তব্য (০)