নিউজ ডেস্ক : যকৃত বা লিভার শরীরের সবচেয়ে পরিশ্রমী অঙ্গগুলোর একটি। প্রতিদিন এটি ৫০০টিরও বেশি জটিল কাজ সম্পন্ন করে—রক্ত পরিশোধন থেকে শুরু করে বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অঙ্গটি নিজেকে আংশিকভাবে পুনর্গঠন বা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম। তবে এই ক্ষমতা অসীম নয়। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ ও ক্ষতিকর অভ্যাস চলতে থাকলে লিভার ধীরে ধীরে ক্ষতির দিকে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জীবনযাপন পদ্ধতি অনুসরণ করলেই লিভারকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
অতিরিক্ত চিনি কমানো জরুরি
লিভারের সবচেয়ে অবমূল্যায়িত ঝুঁকিগুলোর একটি হলো অতিরিক্ত চিনি, বিশেষ করে মিষ্টি পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা ফ্রুকটোজ। এই উপাদানটি সরাসরি লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয় এবং অতিরিক্ত হলে তা চর্বিতে রূপান্তরিত হয়ে লিভারের ভেতর জমা হয়। দীর্ঘদিন এভাবে চললে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হতে পারে, যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। তাই চিনিযুক্ত পানীয় ও ফাস্টফুড কমানো লিভার সুরক্ষার অন্যতম সহজ উপায়।
অ্যালকোহল থেকে বিরতি নেওয়া
অ্যালকোহল লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। প্রতিটি পানীয় শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতে লিভারকে বাড়তি কাজ করতে বাধ্য করে। যদিও অনেকে মনে করেন অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল ক্ষতিকর নয়, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে—লিভারের জন্য ‘নিরাপদ অ্যালকোহল’ বলে কিছু নেই। তাই নিয়মিত বিরতি বা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা সবচেয়ে নিরাপদ।
ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা
শুধু অ্যালকোহল নয়, অনেক সাধারণ ওভার দ্যা কাউন্টার ওষুধও লিভার প্রসেস করে। বিশেষ করে প্যারাসিটামল সঠিক মাত্রায় নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত গ্রহণে এটি তীব্র লিভার ফেইলিউরের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। তাই ওষুধের লেবেল ভালোভাবে পড়া এবং ডোজ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম
শরীরচর্চা লিভার সুস্থ রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে এবং লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা কমায়। এজন্য জিমে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়—নিয়মিত সক্রিয় থাকাই যথেষ্ট।
ভাইরাল হেপাটাইটিস থেকে সুরক্ষা
হেপাটাইটিস একটি বড় লিভার ঝুঁকি। তবে এর মধ্যে হেপাটাইটিস এ ও বি-এর কার্যকর ভ্যাকসিন রয়েছে। হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধ করলে হেপাটাইটিস ডি থেকেও সুরক্ষা পাওয়া যায়, কারণ ডি ভাইরাস শুধুমাত্র বি সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই টিকা গ্রহণ লিভার সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন নেই
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভার সুস্থ রাখতে কোনো ডিটক্স জুস, ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্ট বা বিশেষ পানীয়ের প্রয়োজন নেই। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং অপ্রয়োজনীয় বিষাক্ত উপাদান (বিশেষ করে অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ওষুধ) এড়িয়ে চলাই যথেষ্ট।
শেষ কথা
লিভার আমাদের শরীরের নীরব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই এর স্বাস্থ্য নির্ধারণ করে। সঠিক জীবনযাপন ও সচেতনতা বজায় রাখলে লিভার দীর্ঘদিন তার অসংখ্য কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য (০)