রংপুর ব্যুরো : আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে রংপুর জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সম্ভাব্য যানজট নিরসন, সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খ্রিস্টফার হিমেল ডিসোর। সভায় রংপুর জেলা ও মহানগর পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ওয়াসিম বারি রাজ, সংগঠনের সেক্রেটারি, ট্রাক মালিক প্রতিনিধি, পরিবহন শ্রমিক নেতা, ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে রংপুরের বিভিন্ন পশুর হাটে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। ফলে সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে বুড়ির হাট, নিসবেতগঞ্জ হাট, লালবাগ হাট, চওড়ার হাট এবং উত্তম হাজীর হাট এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় মহানগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মডার্ণ মোড়ের যানজট নিরসনে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আগে ও পরে এই এলাকায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। তাই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার, প্রয়োজনীয় রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন এবং যানবাহন পার্কিং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ভিজিলেন্স ও মনিটরিং টিম গঠন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং মোটরযানের নির্ধারিত গতিসীমা নিশ্চিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্তমূলক আলোচনা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অসচেতন চালকদের কারণে ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় ঈদকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল সীমিত বা বন্ধ রাখার বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যাত্রীবাহী পরিবহনের চাপ কমাতে এবং দীর্ঘ যানজট এড়াতে এ ধরনের পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অরক্ষিত রেলগেটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, ঈদযাত্রা শুধু পরিবহন ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, এটি মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তির সঙ্গেও জড়িত। তাই প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সবাই দায়িত্বশীল হলে এবারের ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
সভা শেষে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
মন্তব্য (০)