নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের ফলে শিক্ষা এখন আর শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এবং অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে এখন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই শিখছে বিভিন্ন বিদেশী ভাষা। চাইনিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান, ফ্রেঞ্চ কিংবা জার্মান, এসব ভাষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান এবং বৈশ্বিক যোগাযোগের সুযোগকে সামনে রেখে।
দেশে বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষামাধ্যম ইতোমধ্যে বিদেশী ভাষা শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তুলেছে। উদাহরণ হিসেবে, দেশসেরা অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম লিড একাডেমী নিয়মিত লাইভ ক্লাসের মাধ্যমে চাইনিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান, ফ্রেঞ্চ এবং জার্মান ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করেছে। ১২০+ কোর্সের মধ্যে ভাষা শিক্ষার কোর্সগুলো রয়েছে শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। কর্মজীবী মানুষ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সময় অনুযায়ী এসব কোর্সে যুক্ত হতে পারছেন, যা ভাষা শিক্ষাকে আরও সহজ ও ব্যবহারিক করে তুলছে।
বিশ্বায়নের এই যুগে বিদেশী ভাষা জানার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বহু প্রতিষ্ঠানই বহুভাষিক দক্ষতাকে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে। এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের মধ্যে একাধিক ভাষায় দক্ষতা প্রত্যাশা করে এবং ইউরোপের প্রায় এক-চতুর্থাংশ চাকরিতে উন্নত ভাষাজ্ঞানকে প্রযোজনীয় দক্ষতা হিসেবে ধরা হয়।
শুধু চাকরির ক্ষেত্রেই নয়, বিদেশী ভাষা জানা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স বা দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষায় নির্দিষ্ট দক্ষতা প্রযোজন হয়। ফলে যারা আগে থেকেই ভাষা শেখে, তারা বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পায়। বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সে বিভিন্ন সরকারি স্কলারশিপ প্রোগ্রামে স্থানীয় ভাষ্য জানা শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
চাকরির ক্ষেত্রেও ভাষাজ্ঞান একটি বড় সুযোগ তৈরি করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পর্যটন, এভিয়েশন, কাস্টমার সার্ভিস, কূটনীতি কিংবা বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করার জন্য বিদেশী ভাষা জানা একটি বড় দক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বহুভাষিক পেশাজীবীরা অনেক ক্ষেত্রে একভাষিক কর্মীদের তুলনায় বেশি আয় করার সুযোগও পান এবং আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ বেশি পান।
এছাড়া ভাষা শেখা ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন ভাষা শেখার মাধ্যমে মানুষের স্মৃতিশক্তি, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ভাষা শেখা মানুষের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করে এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে আরও সহজ করে তোলে।
বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যেও এই সচেতনতা বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, অনেকেই এখন ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিদেশী ভাষা শিখছেন। কেউ স্কলারশিপের স্বপ্ন নিয়ে, কেউ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের লক্ষ্য নিয়ে আবার কেউ ব্যক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দক্ষতা ও প্রযুক্তির পাশাপাশি ভাষাজ্ঞানও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠবে। তাই অনেক তরুণ এখন থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করছে, ঘরে বসেই, অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে, নতুন ভাষা শেখার মধ্য দিয়ে।
এই পরিবর্তন শুধু শিক্ষার ধরণ বদলাচ্ছে না, বরং বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে আরও বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পথও খুলে দিচ্ছে।
মন্তব্য (০)