রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের সংকট উত্তরণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।জেলার সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে রংপুরকে একটি অগ্রসর বিভাগীয় জেলায় রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এ লক্ষ্যে গণমাধ্যম কর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা ও গঠনমূলক পরামর্শ কামনা করেছেন জেলা প্রশাসক।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এ আহ্বান জানান তিনি। সভায় রংপুরের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন তার বক্তব্যে বলেন, “একটি জেলার উন্নয়ন কখনো এককভাবে সম্ভব নয়। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম-সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “আমি যতদিন এই দায়িত্বে থাকব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে চাই। রংপুরের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো যথাযথভাবে সরকারের নজরে আনার চেষ্টা করব।”
তিনি জেলার উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন, শ্যামপুর চিনিকল পুনরায় চালু করা, একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং রংপুরে ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ। পাশাপাশি দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের মাধ্যমে শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ওপর জোর দেন তিনি।
খেলাধুলার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, একটি আধুনিক বিভাগীয় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা গেলে তরুণদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্যখাতে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নগর উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খাল সংস্কার ও পুনঃখননের ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, এসব খাল পুনরুদ্ধার করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। এছাড়া নগরীর যানজট সমস্যা নিরসনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য আলাদা লেন নির্ধারণ এবং রেলস্টেশন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কৃষি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আম, আলু ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যকে বৈদেশিক বাজারে সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। এসব খাতে আধুনিক সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ।আপনাদের সংবাদ, বিশ্লেষণ ও পরামর্শ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করে। তাই রংপুরের উন্নয়নে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”তিনি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রমিজ আলমসহ রংপুরের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার দিক তুলে ধরে নবাগত জেলা প্রশাসকের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভাটি এক আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়, যেখানে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য (০)