নিউজ ডেস্ক : স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে এবং হালকা ব্যায়াম করেও ভুঁড়ি হচ্ছে আপনার। এ নিয়ে দুশ্চিন্তাও কম নেই। কারণ দিন দিন বেড়েই চলেছে কোমরের মাপ। পেটের চর্বি যদি চিন্তার কারণ হয়, তাহলে সে মেদ এলো কোত্থেকে, তা জানা খুবই জরুরি।
শুধু চর্বচোষ্য খেয়ে যে এমন ভুঁড়ি হবে, তা নয়। এর কারণ অন্যও হতে পারে। চর্বির পরত যেন ঠিক পেটের মাঝখানে গিয়েই জমা হচ্ছে। সারা শরীরে তেমন মেদ না থাকলেও ফুলে উঠছে পেট। এরই নামেই হচ্ছে ‘কর্টিসল বেলি’। কমবেশি অনেকেই ভুগছেন এ সমস্যায়।
কারও খেয়ে ওজন বাড়ে, আবার কেউ কম খেয়েও স্থূল হন। বড়সড় ভুঁড়ি নিয়ে নাজেহাল হতে হয়। এমন ভুঁড়ি কিন্তু খাওয়াদাওয়ার কারণে হয় না, এর জন্য দায়ী হরমোন।
কর্টিসল হলো স্ট্রেস হরমোন। মানসিক চাপ যত বাড়বে, দুশ্চিন্তার পারদ যত চড়বে, ততই কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়বে। এই হরমোন যে একেবারেই খারাপ তা নয়। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক হরমোনের মধ্যে কর্টিসল অন্যতম। জীবনদায়ী হরমোনও বলে এটিকে। অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিসল হরমোন বেরোয়। এই হরমোন কতটা বেরোবে, সেই মাত্রা আবার নিয়ন্ত্রণ করে পিটুইটারি গ্রন্থি। শরীরের রক্তচাপ, বিপাক হার, ফ্যাট বা শর্করার মাত্রা ঠিক রয়েছে কিনা, তা স্থির করে দেয় কর্টিসলের ক্ষরণ। কিন্তু যদি কর্টিসল প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেরোতে শুরু করে, তখনই সমস্যা দেখা দেয়। মনের ওপর চাপ যত বাড়বে, ততই এই হরমোনের ক্ষরণ বাড়বে।
আর যত বেশি কর্টিসল বেরোবে, ততই বিপাক হারে বদল আসবে। অতিরিক্ত কর্টিসল কর্টিসল রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, মিষ্টি ও ভাজাভুজি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বাড়ে। হজমক্ষমতা কমে যায়, ফলে বাড়তি ক্যালোরি মেদ হয়ে জমতে থাকে। তাই ফোলাফাঁপা ভুঁড়ির জন্য কেবল খাওয়াদাওয়াকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, মানসিক চাপও অনেকটাই দায়ী।
শুধু হাঁটা বা দৌড়ানো নয়। এতে কর্টিসল বেলি সহজে কমে না। এর জন্য বিশেষ কিছু ব্যায়াম আছে। করতে হবে কয়েক রকম যোগাসন, পিলাটেজ, তাই চি এবং স্ট্রেচিংয়ের মতো ব্যায়াম।
যোগাসন
যোগ-ব্যায়ামের মধ্যে ধনুরাসন করলে কর্টিসল বেলি কমে। এ পদ্ধতি খুব কঠিন নয়। উপুড় করে শুয়ে পড়ুন। এবার হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা যতখানি সম্ভব পিঠের ওপর নিয়ে আসুন। এরপর হাত দুটো পেছনে নিয়ে গিয়ে গোড়ালি বা পায়ের আঙুল শক্ত করে চেপে ধরুন। এবার সেভাবেই দুই পা যতটা সম্ভব তুলে পিঠের ওপর নিয়ে আসতে হবে। এতে কাঁধ পেছনের দিকে থাকবে, বুক সামনের দিকে প্রসারিত হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে। ২০-৩০ সেকেন্ড করে এ আসন বার তিনেক করতে হবে।
স্ট্রেচিং
ফরোয়ার্ড ফোল্ড পেটের মেদ কমানোর জন্য করা যেতে পারে স্ট্রেচিং। সোজা হয়ে দাঁড়ান। এরপর কোমর ভেঙে দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের পাতা স্পর্শ করুন। মাথা যতটা সম্ভব নিচের দিকে ঝুঁকে দিন। প্রথম প্রথম পায়ের পাতা স্পর্শ করতে সমস্যা হলেও পরে ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে। সারা শরীরের স্ট্রেচিং হবে এ ব্যায়ামে।
পিলাটেজ
পেলভিক ব্রিজ ভুঁড়ি কমানোর জন্য ভালো ব্যায়াম। এর জন্য পিলাটেজ বল হলে বেশি ভালো হয়। এবার মেঝেতে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। আপনার দুটি পা বলের ওপর রাখুন। দুই হাত শরীরের দুই পাশে সমান্তরালভাবে রাখুন। ধীরে ধীরে কোমর ও নিতম্ব ওপরের দিকে তুলুন, যাতে শরীর একটি সোজা রেখায় থাকে। ১০-২০ সেকেন্ড ধরে রেখে আবার আগের অবস্থানে ফিরে যান।
তাই চি
শরীরের সব পেশির ব্যায়াম হয় তাই চি অভ্যাসে। শক্তি বাড়ে এবং মেদও কমে। ভুঁড়ি কমাতে করতে পারেন লোটাস কিক। এক পায়ে দাঁড়িয়ে অন্য পা ঘুরিয়ে কিক করুন। এভাবে কয়েকটি সেটে পা বদলে বদলে করুন। এতে যেমন পায়ের পেশির জোর বাড়বে, ঠিক তেমনই মেদ কমবে।
মন্তব্য (০)