• সমগ্র বাংলা

রংপুরে বিপুল পরিমাণ টিসিবির পণ্য উদ্ধার, ডিলার আটক

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

রংপুর ব্যুরো: রংপুর নগরীতে সরকারি ন্যায্যমূল্যের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করে টিসিবির পণ্য গোপনে মজুদ করে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে বিপুল পরিমাণ পণ্য উদ্ধার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযানে একজন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।


শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর খেলবাড়ী এলাকায় এলএসডি গোডাউনের সামনে পরিত্যক্ত একটি স্থানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বরাদ্দকৃত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য নিয়ম অনুযায়ী বিতরণ না করে অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে।


ডিবি পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে-৭০ কেজি খেজুর, ১৫০ কেজি চিনি, ১৫০ কেজি বুট, ৬১৩ কেজি মসুর ডাল এবং ১৬২ লিটার ভোজ্য তেল। উদ্ধারকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।


ডিবি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র রোজার মাসকে সামনে রেখে টিসিবির পণ্য গোপনে মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে সরবরাহ না করে কৌশলে এসব পণ্য কালোবাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন নামের একজনকে আটক করা হয়। তার বাড়ি পাবনা জেলায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে টিসিবির বৈধ ডিলার দাবি করলেও তদন্তে দেখা যায়, পণ্য উত্তোলনের পর তা নির্ধারিত উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে অবৈধভাবে মজুদ করা হচ্ছিল।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন,সরকারি টিসিবির পণ্য সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ। কেউ যদি সেই পণ্য গোপনে মজুদ করে অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্ধার করা পণ্যগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল-এ বিষয়ে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে টিসিবির পণ্য অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”


পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা পণ্যের উৎস, কতদিন ধরে মজুদ ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না-সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়।


রোজার মাসকে কেন্দ্র করে টিসিবির পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনৈতিক মুনাফার আশায় এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ নির্ধারিত মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে না পেরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।


স্থানীয় বাসিন্দারা ডিবি পুলিশের এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, টিসিবির পণ্য কালোবাজারে চলে যাওয়ায় প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হন। নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হলে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।


রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, জনস্বার্থে সরকারের ন্যায্যমূল্যের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য (০)





  • company_logo