কক্সবাজার প্রতিনিধি :কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপি উখিয়ায় ও জামায়াত টেকনাফে ৯ ফেব্রুয়ারী সোমবার দুটি জনসভা আয়োজন করে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেছেন।
মিয়ানমার সীমানা ঘেঁষা রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এই সংসদীয় এলাকাটি লক্ষী আসন হিসেবে পরিচিত। স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির ১৯৭০ সালের নির্বাচন থেলে এখানের মানুষ সবসময়ই ক্ষমতামূখী। সবসময়ই সরকারি দলের এমপি থাকে এই আসনে। তারপরও এখানে মাদক,মানবপাচার, অপহরণসহ নানা অপরাধের তকমা লেগেই থাকে উখিয়া-টেকবাফে। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতন হওয়ার পর থেকে এখানে ১৯৯১ সালে বিএনপি''র শাহজাহান চৌধুরী, ১৯৯৬ সালের ১২ জুনে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আলী, ২০০১ সালে বিএনপি"র শাহজাহান চৌধুরী,২০০৮ সাল ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুর রহমান বদি, ২০১৮ সাল ও ২০২৪ সালে আব্দুর রহমান বদির স্ত্রী আওয়ামী লীগের শাহীন আকতার চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হন। এবার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। এই আসেনর ভোটাররা জাতীয় রাজনীতির চেয়ে স্হানীয় সুযোগ সুবিধা, মামলা -হামলামূক্ত নেতৃত্ব, জাতীয় পর্যায়ে কোনদলের অবস্হান ভালো, প্রশাসনিক হয়রানি মুক্ত পরিবেশ আশা করে ভোট প্রয়োগ করে থাকেন। তাছাড়া ভাসামন বিশাল ভোটার রয়েছে যাদের কিনা আর্থিক সুবিধা নিয়ে ভোট দিয়ে থাকেন। সুতরাং এবারের নির্বাচনে ভাসমান সাধারণ ভোটার যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে সেই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এমনটা মনে করেন অনেকে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়,
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৯৭ নং
কক্সবাজার -৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে
৪ প্রার্থী হলেন- বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নুরুল হক ও জাতীয়তাবাদি গণতন্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এর প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ।
এখানে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮২৫ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৬৮ জন পুরুষ, ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন নারী ও ৬ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। এই আসনে ৩ হাজার ৮৬৩ জন ভোটার পোষ্টাল নিবন্ধন করেছেন। এই পোষ্টাল নিবন্ধিত ভোটার বাদে অন্যরা এই আসনের ১৮২ টি ভোট কেন্দ্রের ১ হাজার ১০৭ টি ভোট কক্ষে ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন। এখানে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী ও কক্সবাজার জেলা জামায়াত আমির ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহমদ আনোয়ারীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যায়।
কক্সবাজার জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন বলেন, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এই আসনটি জাতীয় ভাবে ক্ষমতা কেন্দ্রিক আসন। অর্থাৎ এখানে কোন দল রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে পারে ভোটারাও সেই দিক বিবেচনা করে ভোট প্রয়োগ করে থাকেন। সারা দেশে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে মানুষ বিএনপিকে ধানের শীষ প্রতীক এ ভোট প্রয়োগ করে সরকার গঠনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন। তাই এখানে ধানের শীষ বিজয়ী হবে।"
টেকনাফ উপজেলা জামায়াত আমীর রফিকউল্লাহ বলেন , ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করার জন্য দেশের মানুষ নতুন নেতৃত্ব আশা করছে। তরুন প্রজন্ম সংগ্রাম করেছে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে স্বৈরাচার হটিয়েছে আর একটি স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় বসাবে তার জন্য নয়। সাধারণ মানুষ পরিবর্তন ও সংস্কারের জন্য এবার দাড়ি পাল্লা প্রতীককে ভোট দিয়ে ইতিহাস রচনা করবে ইনশাআল্লাহ। "
তাই এখানে এখনো কে বিজয়ী হতে পারে তার চুড়ান্ত ফলাফল পেতে ভোট প্রয়োগ ও গননার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচার, মাইকিং, জনসংযোগ ও পথ সভার মধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম প্রায় শেষ । গণভোট নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন কোন ধারণা বা আলাপ আলোচনা নেই এখনো।
মন্তব্য (০)