নিউজ ডেস্ক : শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু সারা জাতিকে উদ্বেলিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম। শনিবার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ অফিসার ও সদস্যদের সঙ্গে একটি বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশগ্রহণ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন প্রমুখ।
বাহারুল আলম বলেন, গ্রেফতার করলে যদি থানা ঘেরাও করে বসে থাকেন তাহলে আমার অথরোটি কোথায়? যদি অন্যায় করি তাহলে ধরেন আমাকে। কিন্তু ন্যায় কাজটা আমাকে করতে দেন।
বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গে পুলিশের আইজিপি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে উদ্ভুত মামলায় অনেক নাম দেওয়া হয়েছে। যাদের অনেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাদের আমরা রিলিফ দেওয়ার চেষ্টা করছি। সব থেকে বড় যেটা বিষয় সেটা হলো আপনাদের দেশবাসীর সমর্থন চাই। এ পুলিশ তাদের মনোবলকে আপনারা সমর্থন দিয়ে উঁচু রাখবেন।
পুলিশের খোয়া যাওয়া অস্ত্র সম্পর্কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি পুলিশের খোয়া যাওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রশ্নে আইজিপি বলেন, পুলিশের খোয়া গেছে ৫ হাজার ৫০০টির বেশি অস্ত্র। এর মধ্যে এখনো ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সব অস্ত্রই আমরা উদ্ধার করতে পারছি না। একটা দুইটা করে উদ্ধার হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে যে এটা আমরা পুরোটা উদ্ধার করে ফেলতে পারব বলে চেষ্টা চালাচ্ছি। সেটা হয়তো বা সম্ভব হবে না। এর বাইরেও অনেক অবৈধ অস্ত্র আসছে। সেগুলোও উদ্ধার করা হচ্ছে। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে আজ (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত ২৫১টি দেশি-বিদেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একটু একটু করে হচ্ছে। আপনাদের কাছ থেকেও অনেক খবর পেয়ে আমরা সেটা করছি। এটা অব্যাহত থাকবে।
ডেভিল হাট-২ অপারেশনে বাধা পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইজিপি বলেন, আমরা ১৩ ডিসেম্বর থেকে অপারেশন ডেভিল হান্ট- ফেজ টু শুরু করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের অনেক সমালোচনাও আছে। অনেক রাজনৈতিক নেতা, অনেক প্রার্থী তারা বলছেন- আপনার পুলিশ আমার কর্মীকে অ্যারেস্ট করেছে। আমি নির্বাচনে কাজ করতে পারছি না। আমরা চেষ্ট করছি যতটা সম্ভব অবজেকটিভিলি কাজ করতে। যিনি প্রটেনশিয়ালি একজন রিসকি থ্রেট, যিনি প্রটেনশিয়াল থ্রেট, ফরদি দিস ইলেকশন। আমরা চেষ্ট করছি। তাকে আইনের আওতায় আনতে। তাকে গ্রেফতার করতে অথবা যদি কারো নামে মামলা থাকে এবং তিনি অপরাধী।
তিনি নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের বডি ক্যামেরা ক্রয় প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, সরকার এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তারা যেন প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন, আমি যেটা শুনতে পেয়েছি যে সেটা তারা চেষ্টা করছেন। হয়তোবা হয়ে যাবে। এর অতিরিক্ত আমরা যে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার এবং মধ্যম ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ হাজার কেন্দ্রে মোট ২৪ হাজার কেন্দ্রের পুলিশের কাছে আমরা বডি ক্যাম দেওয়ার একটা উদ্যোগ নিয়েছি। নিজ নিজ জেলার এসপি সাহেবরা বডি ক্যামগুলো কিনছেন এবং জেলা পর্যায়ে এর ওপরেও প্রশিক্ষণ চলছে। আমাদের সব চেষ্টাই একটি সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি করা।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ইলেকশনের বিষয়ে পুলিশকে ট্রেনিং দেওয়ার কারণ উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, আমাদের নানামুখি তৎপরতা আছে আমরা পুলিশকে এক ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এ ইলেকশনটাকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ইলেকশন করার জন্য কখনো পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়নি। কারণ এর আগের ১৫ বছরে অনেক পুলিশ নতুনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। আগের পনের বছরের যে ইলেকশনগুলো ওনারা দেখেছেন। সেগুলোর ওপরে মানুষের আস্থা নাই। সে কারণে নির্বাচনে কীভাবে কাজ করতে হবে সে নিয়ে সব পুলিশের স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। সেটা আমরা চেষ্টা করেছি এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে আমরা প্রশিক্ষণ দেওয়ার টার্গেট নিয়েছি। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমরা ১ লাখ ৩৩ হাজার জনকে সেটা আমরা দিতে পেরেছি। আগামী ২০ তারিখের মধ্যে সবাইকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাপ্ত করতে পারব।
তিনি বিগত দিনের পুলিশি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বলেন, আগে পুলিশের নানান ধরনের অনেক বিচ্যুতি ছিল। আমরা বাহিনী দীর্ঘ ১৭ বছর নানা গণবিরোধী কাজ করেছি। সেগুলো থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশ এখন কাজ করছে। আগে পুলিশ দলীয়করণ ছিল। ভোটের দিন ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। নির্বাচনের সময় ৬ লাখ আনসার সদস্য কাজ করবে। এদের পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ড, নেভি ও বিজিবির সদস্যরা কাজ করবেন। আমরা পুলিশ আগে অনেক গণবিরোধী কাজ করেছে। পুলিশের কিছু লোভী সদস্য, দলকানা পুলিশের কারণে আমাদের উপর যে দায়ভার এসেছে তা থেকে আমারা নিজেদের মুক্ত করার জন্য কাজ করছি। আপনারা জানেন জুলাই-আগস্ট মাসে যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটল, বিপুল পরিমাণ আন্দোলনকারী প্রাণ দিয়েছে শহীদ হয়েছে। পুলিশকে পুনরায় সহমহিমায় দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা শতভাগ সফল হয়নি স্বীকার করছি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শতভাগ দূর করা যায় না।
আপনারা দেখেছেন বিগত ১৫/২০ বছররের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অপরাধ পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রতি বছর সাড়ে হাজার থেকে চার হাজার হত্যা সংঘটিত হয়ে থাকে। আমাদের চেষ্টা থাকবে যেন একজনও মারা না যায়। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তবুও কিছু বিচ্যুতি তো থাকে। আপনারা দেখেছেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু কীভাবে আমাদের সারা জাতিকে উদ্বেলিত করেছে। আমাদের কাছে দায়ভার এসেছে তার সুষ্ঠু বিচার করার জন্য। আমরা সে চেষ্টা করছি অপরাধীদের ধরেছি অন্যদেরও ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
মন্তব্য (০)