• লিড নিউজ
  • জাতীয়

শীতের তিন মাসেও গ্যাস নিয়ে নেই কোনো সুখবর

  • Lead News
  • জাতীয়

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে শীত মৌসুমে কিছুটা স্বস্তিতে থাকে সরকার। গ্রাহকেরও তুলনামূলক অভিযোগ কম থাকে।এবার অবশ্য ঘটতে যাচ্ছে ভিন্ন ঘটনা।শীতের সময়েও গ্যাস নিয়ে কোনো সুখবর থাকছে না। আগামী তিন মাসে শিল্প খাতে যে পরিমাণ গ্যাস বরাদ্দ রাখা হচ্ছে তাতে চাহিদা পূরণ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।  

দেশে গ্যাসের চাহিদা কমপক্ষে ৪০০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এরমধ্যে বর্তমানে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ২৬০ কোটি ঘনফুট। গ্যাসের কারণে ৫৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ডিমান্ড নোটের টাকা দিয়েও গ্যাস পাচ্ছে না। এই ৫৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ শিল্পে গ্যাসের আবেদন জমা আছে ১ হাজার ৮শ’র বেশি।

দীর্ঘদিন গ্যাসের সংকটে শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে এবং এর ফলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ে এই খাত। তবে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো শীত মৌসুমকে ঘিরে আশাবাদী হয়ে উঠে। তারা আশায় বুক বাধে যে, শীতের ৩-৪ মাস অন্তত বিদ্যুতে গ্যাসের চাহিদা কমবে এবং সেই গ্যাস শিল্প পাবে এবং উৎপাদন বাড়বে শিল্পে। কিন্তু এবার তেমনটা ঘটছে না। গত বছরের চেয়ে এবার শীতে শিল্পে গ্যাসের বরাদ্দ কম রাখা হচ্ছে। উপরন্তু যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তাতে শিল্পে গ্যাস সংকট কাটবে না। 

পেট্রোবাংলার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অক্টোবরে শিল্প এবং ক্যাপটিভে ১০৭ কোটি ১০ লাখ, নভেম্বরে ১১২ কোটি ৬০ লাখ এবং ডিসেম্বরে ১১৪ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাবে। তিতাসসহ অন্যরা জানিয়েছে, এবার শিল্পে যে গ্যাস বরাদ্দ রাখা হয়েছে তারচেয়ে কমপক্ষে ১২-১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাবে শিল্প ও ক্যাপটিভের গ্রাহকরা। কারণ সার এবং বিদ্যুতে বরাদ্দ ঠিক রেখে ১৫-২০ কোটি ঘটনফুটের সিস্টেম লসের বড় অংশ সমন্বয় করা হয় সাধারণত শিল্পে। বাকিটা সমন্বয় করা হয় বাসাবাড়িসহ অন্যান্য খাতে। গত বছর (২০২৫) শিল্পে অক্টোবরে ১১১ কোটি ২০ লাখ, নভেম্বরে ১১৩ কোটি এবং ডিসেম্বরে ১১৪ কোটি ৩০ লাখ গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী আগামী তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশে গ্যাস সরবরাহ কমবে। এখন দৈনিক ২৬০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হলেও অক্টোবরে গড়ে সরবরাহ করা হবে ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ, নভেম্বরে ২৫৩ কোটি ৪০ লাখ এবং ডিসেম্বরে ২৫২ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট। মূলত ডিসেম্বরে বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রে থেকে কিছুটা উৎপাদন কমবে।

পেট্রোবাংলার হিসাব বলছে, শেভরনের তিন ক্ষেত্র থেকে অক্টোবরে গ্যাস পাওয়া যাবে দৈনিক ৮৬ কোটি ঘনফুট, নভেম্বরে ৮৫ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৮৪ কোটি ঘনফুট। এর পাশাপাশি অক্টোবরে এলএনজি সরবরাহ করা হবে গড়ে ৯৪ কোটি ঘনফুট এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরে ৯২ কোটি ঘনফুট। সাধারণ প্রতি মাসে ১০টি করে এলএনজি কার্গো আমদানি করা হলেও এই তিন মাসে আমদানি করা হবে ৯টি কার্গো। একটি কার্গো কম আসবে নভেম্বর মাসে। এই এক কার্গোর কম গ্যাস সমন্বয় করা হবে তিন মাসে। শীতে প্রতি বছরই সরকার ১/২টি কার্গো কম আমদানি করে থাকে।

এবার শীত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সার খাতে। সারে অক্টোবরে ২০ কোটি ৮০ লাখ, নভেম্বরে ২০ কোটি ৮০ লাখ এবং ডিসেম্বরে ২৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় জ্বালানি বিভাগকে জানিয়েছে, দেশের ইউরিয়ার সংকট কাটাতে দেশের ৫টি সার কারখানা চালানো জরুরি। সেই হিসাবে এই বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরমধ্যে অক্টোবর-নভেম্বরে ঘোড়াশাল-পলাশ সারকারখানাকে দৈনিক ৭ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট, ডিসেম্বরে ৬ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট, যমুনাকে অক্টোবর-নভেম্বরে দৈনিক ৪ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট ও ডিসেম্বরে ৩ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট, শাহজালালকে অক্টোবর-ডিসেম্বরে দৈনিক ৪ কোটি ঘনফুট এবং সিইউএফএলকে অক্টোবর-নভেম্বরে ৫০ লাখ ঘনফুট ও ডিসেম্বরে ৩ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কাফকো শিগগির চালু করা হবে। এই কারখানার জন্য অক্টোবর-নভেম্বরে ৫ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৪ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ দিয়েছে পেট্রোবাংলা।

৬টি বিতরণ কোম্পানির মধ্যে তিতাস অক্টোবরে ১৪৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দিতে পারবে তার গ্রাহকদের। নভেম্বরে ১৪৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ১৪৭ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ পাবে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। ডিসেম্বরে বিদ্যুতের চাহিদা কমার কারণে বাখরাবাদ তখন সরবরাহ দিতে পারবে ২৫ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। এখন এই বিতরণ কোম্পানি দিচ্ছে ৩০ কোটি ঘনফুটের বেশি।

জালালাবাদ ৩৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩৮ কোটি ঘনফুট। পশ্চিমাঞ্চল ৮ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট, কর্ণফুলী ২৮ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২৪ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট এবং সুন্দরবন কোম্পানি এই তিন মাস সরবরাহ করবে ৭ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস। বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পিডিবি জানিয়েছে, এবার গরম কমছে না। অন্যান্য বছর অক্টোবরে বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসে। কিন্তু এবার কমছে না। তাই শীতের মৌসুম নিয়ে তাদের চিন্তা আছে।

গত জুলাই মাস এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশ টানা দুই মাসের বেশি সময় তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যদিয়ে যায়। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল ৬ আগস্ট ঠিক হলেও সরকারের ভুলনীতি অর্থাৎ সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় ৩টি কার্গো ক্রয় করে। কিন্তু সেগুলো একটিও আসেনি। এই কারণে পুরো দেশ এক মাসের বেশি সময় চরম গ্যাস সংকটের মুখে পড়ে।

মন্তব্য (০)





image

‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে যা বলল বিশ্বব্যাংক

১

নিউজ ডেস্ক : একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করা এবং বিদ্যমান ন...

image

‎জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআ...

২

নিউজ ডেস্কঃ জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্...

image

‎বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

৩

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির জন্য দেশটি...

image

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআর...

৪

নিউজ ডেস্ক : জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত...

image

‎শিশুদের শৈশব হতে হবে নিরাপদ ও সুরক্ষিত : ডা. জুবাইদা রহম...

৫

‎নিউজ ডেস্কঃ জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা...

  • company_logo