• লিড নিউজ
  • জাতীয়

এআই ক্যামেরাই কাল হলো বেনজীরের

  • Lead News
  • জাতীয়

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : দুবাই থেকে গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দীর্ঘদিনের পলাতক জীবন এবং দেশ ছাড়ার ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, শেষ পর্যন্ত আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি প্রযুক্তির কাছেই ধরা পড়তে হয়েছে এক সময়ের প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তাকে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তিই বেনজীর আহমেদকে শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে যাত্রার সময় দুবাইয়ের ট্রানজিট এলাকায় নামলে বিমানবন্দরের এআইচালিত ক্যামেরা তার মুখমণ্ডল স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান করে।

পরে ওই তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধী ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে সতর্কতা সংকেত জারি হয়। এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় ইউনিট বিষয়টি যাচাই করে এবং প্রাথমিক নিশ্চিতকরণের পর তাকে হেফাজতে নেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত শনাক্তকরণের পর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।

সূত্রগুলো বলছে, দুবাই বিমানবন্দরের নজরদারি ব্যবস্থায় থাকা এআইচালিত ক্যামেরা প্রতিনিয়ত যাত্রীদের মুখাবয়ব স্ক্যান করে আন্তর্জাতিক অপরাধী ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সম্ভাব্য মিল শনাক্ত করার সক্ষমতা থাকায় এ ধরনের প্রযুক্তি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধী শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের যত মামলা: ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে পাসপোর্ট জালিয়াতি ও আরেকটি মামলা করে দুদক।

যত সম্পদ জব্দ: আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তার ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুসন্ধান শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়েন তিনি। এরপর আর দেশে ফেরেননি। দুদকের অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে আসে। আদালতের আদেশে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা শত শত বিঘা জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, শেয়ার এবং অন্যান্য সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১২ জুন বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা ৮টি ফ্ল্যাট এবং ২৫ একর (১ একর সমান ৬০ দশমিক ৫ কাঠা) ২৭ কাঠা জমি জব্দ করার (ক্রোক) আদেশ দেন আদালত। এসব ফ্ল্যাট ঢাকার বাড্ডা ও আদাবরে এবং জমি নারায়ণগঞ্জ, বান্দরবান ও উত্তরায়। এ ছাড়া দুই দফায় বেনজীর ও তার পরিবারের নামে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ৬২১ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। এ ছাড়া ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং ৩টি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা : বেনজীর আহমেদ র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে র‌্যাবের অভিযানে নিখোঁজ ও নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তার নামও অন্তর্ভুক্ত হয়।

কৌশলে দেশ ছাড়েন বেনজীর: দুদকের অনুসন্ধান শুরুর দুই সপ্তাহের মাথায় ২০২৪ সালের ৪ মে দেশ ছাড়েন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। দুবাইয়ে তার গ্রেফতারের খবর সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে সেই বহুল আলোচিত দেশত্যাগের ঘটনা। যে ভিডিও এখন ভাইরাল কনটেন্ট।

ওইদিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপত্তা তল্লাশি এলাকায় প্রবেশের সময় তার সামনে ছিলেন ইউনিফর্ম পরা এক পুলিশ সদস্য ও সাদা পোশাকের এক নারী পুলিশ সদস্য। পেছনেও ছিলেন আরেক ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্য। দেশ ছাড়ার সময় তার সঙ্গে পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। সোনালি রঙের হাফশার্ট, গাঢ় রঙের প্যান্ট ও কালো জুতা পরা অবস্থায় তিনি বিমানবন্দরের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করেন।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয় শেষ নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকিতে। ফুটেজে দেখা যায়, সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্যের শারীরিক তল্লাশি ছাড়াই তিনি চেকপয়েন্ট অতিক্রম করেন। অথচ সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই তল্লাশি বাধ্যতামূলক। এছাড়া ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতাও দ্রুত সম্পন্ন করা হয় বলে ফুটেজে দেখা যায়।

দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ সদস্যের দিকে হাত নেড়ে বিদায় জানাতেও দেখা যায় বেনজীর আহমেদকে। দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় তার এই দেশত্যাগ পরবর্তীকালে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, সম্পদ জব্দ এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও তিনি আর দেশে ফেরেননি। এখন দুবাইয়ে

মন্তব্য (০)





image

সারা দেশে লোডশেডিং নিয়ে যা জানালেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ কারিগরি ত্রুটির ও কয়লাসংকটের কারণে দুটি বড় বিদ্য...

image

‎অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্...

নিউজ ডেস্কঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অন্তর...

image

প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মস...

নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল রাজধানীর শেরে...

image

‎তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে সম্ভ্যবতা জরিপ দ্রুত ...

নিউজ ডেস্কঃ তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে ‘খুব দ্...

image

‎বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আগ্রহী সুইজারল্য...

নিউজ ডেস্কঃ সুইজারল্যান্ড তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগ...

  • company_logo