নিউজ ডেস্ক : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংক ‘ইসলাম’ নয়, জামায়াতে ইসলামীও ‘ইসলাম’ নয়। সুতরাং সবকিছুতে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না, দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।
একবার দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে যাবে, তার যে যাতনা হচ্ছে- সেটা তারা বুঝতে পারছেন- এমন মন্তব্যও করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের তৃতীয় দিন ৬৮ বিধিতে দেওয়া ইসলামী ব্যাংক সংক্রান্ত বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নোটিশের জবাবে সালাহউদ্দিন এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলাম নাকি ব্যাংকের মালিক না। আবার তারা বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। কয়দিন আগে জামায়াতে ইসলামের এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হয়েছে, সে এ কথা বলেছে। আমি তার নাম নিলে আবার এখানে (সংসদ) তিনি দাঁড়াতে পারেন। এছাড়া জামায়াতের দুজন এমপিও ছিলেন, তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এদের একজন পরাজিত এমপি, আরেকজন জামায়াত নেতা ছিলেন।
তিনি বলেন, তারা বলে দিচ্ছেন ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। মাননীয় স্পিকার- ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপর হাত দেবেন না, দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, মাননীয় স্পিকার আমি এবার পয়েন্ট টু পয়েন্টে আসি। এখন একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে- এ যাতনা তো আমরা বুঝি। সুতরাং যারা পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক বলে রাস্তায় আন্দোলন করছে। ভিডিওটা দেখেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয়। আমাদের মধ্যে অনেকে গ্রাহক আছে। গ্রাহককে বলা হচ্ছে বলেন আপনার অ্যাকাউন্ট আছে।
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারগুলো ‘ডাকাতি করে কিনে নেওয়া হয়েছে’ বলে বিরোধী দলের উপনেতার বক্তব্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ইবনে সিনার (হাসপাতাল) দুই পারসেন্ট শেয়ার ছিল, ব্লক মার্কেটে তারা তিন গুণ দামে শেয়ার বিক্রি করেছে। এটা তো রেকর্ড, পাবলিক লিস্টেড কোম্পানির শেয়ার ব্লক মার্কেটে তিন গুণ দামে বিক্রি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের নোটিসে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, সেই বৈধ এবং প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছে এই মালিকানা ফেরত দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কারা কত শতাংশ শেয়ারের মালিক, তা প্রকাশ করারও দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরকে অনুরোধ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা তারা কীভাবে খরিদ করেছেন সেটা ভিন্ন বিতর্ক, সেটা দুদকের তদন্ত হতে পারে, মামলা হতে পারে। কিন্তু শেয়ারহোল্ডাররা শেয়াহোল্ডারই।
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ ও পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ব্যাংক কোম্পানি আইনে দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করেই ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫, ৪৬, ৪৭ ও ৪৯ ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে জনস্বার্থ, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে চেয়ারম্যান থেকে পরিচালনা পর্ষদ পর্যন্ত অপসারণ এবং পর্ষদ বাতিলের ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারে, বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, আগে আইন পরিবর্তন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তন করে তারপর আপনারা এই আলোচনায় আসেন। অন্যথায় রেগুলেটরি অথরিটি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব ক্ষমতা বলে দেশের স্বার্থে, ব্যাংককে রক্ষা করার স্বার্থে কার্যক্রম চালু করবে।
ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-আরডিএসের অর্থ বিতরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আরডিএস ইসলামী ব্যাংকের একটি ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়, যেখানে নারী গ্রাহকের সংখ্যা বেশি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটের আগে অনেক নারীকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও টাকা পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আরডিএস প্রকল্পে আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ অগাস্ট ২০২৪-এর পর নির্বাচনের আগে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর কোনো হদিস নেই।
ইসলামী ব্যাংক থেকে বড় ঋণ বিতরণ নিয়েও সংসদে কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
ইসলামী ব্যাংকের হেড অফিসের (প্রধান কার্যালয়) অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে একটি গ্রুপকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সোশ্যাল করপোরেট রেসপন্সিবিলিটির (সিএসআর) নাম দিয়ে যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানের টিকিট পর্যন্ত ব্যাংক থেকে করিয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তকবির দিয়ে ব্যাংক দখল করার পর যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের সংখ্যা হচ্ছে ৯ হাজার। কোনো আইন–কানুন না দেখিয়ে তাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ছয় হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাই একটি রাজনৈতিক মতাবলম্বী। ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যারা যেই ক্যাটাগরি থেকে প্রমোশন পেয়ে যে ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা নয়, তিনটা করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই অনিয়মগুলো তো হয়েছে মাননীয় স্পিকার। ইসলামের নামেই তো হয়েছে বলে মনে হয়। সুতরাং এগুলো তদন্ত হলে হয়তোবা আমাদের কারও কারও নাম ওখানে চলে আসতে পারে।
মন্তব্য (০)