• সমগ্র বাংলা

তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে হবে: এমপি বাদশা

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এর আলোকে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের গুরুত্ব” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে নগরীর স্থানীয় একটি হোটেলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এমপি।

তামাকজনিত রোগে মৃত্যু ও অসুস্থতা কমানো, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও এসডিজি অর্জনে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ণের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করে উবিনীগ, ভেঞ্চার ফাউন্ডেশন ও তামাকবিরোধী নারী জোট- তাবিনাজ।

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সুফল পেতে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি যা তিনি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন।

তিনি আরো বলেন, ৩১ মে ২০২৬ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর জন্য তার দিক থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, চূড়ান্ত আইনে উদীয়মান তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এসব পণ্য বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এগুলো নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনি উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়াও বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাসুদ হোসেন, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম এবং বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহীম আলী। বৈঠকে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান, ভেঞ্চার ফাউন্ডেশনর নির্বাহী পরিচালক ফজিলাতুন্নেসা ফৌজিয়াসহ সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

বক্তারা বলেন, সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও বিক্রয়স্থলে প্রদর্শন নিষিদ্ধ, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার পরিমাণ প্যাকেটের ৭৫ শতাংশে উন্নীত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট স্থাপনার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান বিধিনিষেধ আরও জোরদার করা হয়েছে।

দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের প্রায় ৩৫ শতাংশ তামাক ব্যবহার করে। তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়াও ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক। ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নারী, শিশু ও অধূমপায়ীরাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। তামাকজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতার কারণে পরিবারে আর্থিক চাপ বাড়ে এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি হয়। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্য ক্ষতি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও পরিবেশগত ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। আর এই আইন বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন জরুরী। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণের জন্য বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
 

মন্তব্য (০)





  • company_logo