মাদারীপুর প্রতিনিধি: সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা প্রশাসন। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রতিটি প্রকল্পের স্থানে বরাদ্দের তথ্যসংবলিত ফলক স্থাপন করেছে শিবচর উপজেলা প্রশাসন। এতে কোন এলাকায় কত টাকার কাজ হচ্ছে, তা সহজেই জানতে পারছেন স্থানীয়রা। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, এ উদ্যোগের ফলে অনিয়মের সুযোগ কমেছে, বেড়েছে জবাবদিহি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তা সংস্কার, মাটি ভরাট, সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুতেই প্রতিটি কাজের স্থানে তথ্যফলক স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে প্রকল্পের নাম, বরাদ্দের পরিমাণ, বাস্তবায়নকারী সংস্থা বা কমিটি এবং কাজের বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পের ব্যয় ও কাজের ধরন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি থাকছে না।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে টিআর খাতে ৪ কোটি ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩২ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১৮টি ইউনিয়নে ২৭৬টি প্রকল্প নেওয়া হয়। এর মধ্যে রাস্তা ৯১টি, মাঠ ভরাট ২২টি, খাল ২টি এবং মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ১৬১টি প্রকল্প রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কঠোর তদারকিতে ত্রুটিপূর্ণ, কম কাজ ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের ৭ লাখ ৫৬ হাজার ১৫০ টাকা কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কাবিটা ও কাবিখা খাতে ৪ কোটি ৪১ লাখ ৪৮ হাজার ৭১০ টাকা এবং ৫৩৬.৫৮৩৪ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের বিপরীতে ১৮টি ইউনিয়নে ২৩৪টি প্রকল্প নেওয়া হয়। এর মধ্যে রাস্তা ২০৬টি, মাঠ ভরাট ২০টি ও খাল ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে ।উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কঠোর তদারকিতে ত্রুটিপূর্ণ, কম কাজ ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৮৭ টাকা এবং ৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, আগে সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ খুব বেশি জানতে পারতেন না। এখন কাজের পাশে তথ্যফলক থাকায় বরাদ্দের পরিমাণ জানা যাচ্ছে। এতে কাজের মান নিয়েও স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলতে বা সংশ্লিষ্টদের কাছে জবাবদিহি চাইতে পারছেন।
সানাউল্লাহ নামের একজন সমাজকর্মী বলেন, কাজের জায়গায় কত টাকা বরাদ্দ, কী কাজ হওয়ার কথা এসব তথ্য প্রকাশ্যে থাকলে সাধারণ মানুষও কাজের ওপর নজর রাখতে পারেন। এতে অনিয়ম করার সুযোগ কমে।
শিবচর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবিদ হাসান বলেন, সরকারি প্রকল্পের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। তাই জনবলের সল্পতা থাকা সত্বেও কাঠোর তদারকির মাধ্যমে প্রতিটি প্রকল্পে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার করা হয়েছে এবং কাজের গুনগতমান নিশ্চিত করা হয়েছে। আমি মনে করি বিগত বছরগুলোর তুলনায় শিবচর উপজেলায় কাজের পরিমাণ ও গুনগত মান বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম ইবনে মিজান বলেন, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের বিষয়ে জনগণের জানার সুযোগ থাকা উচিত। এ জন্য প্রতিটি প্রকল্পের স্থানে তথ্যফলক স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যে সকল প্রকল্পের কাজ কম হয়েছে অথবা ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের কাজ হয়েছে যে সকল প্রকল্পের টাকা কর্তন করে সরকারী কোষাগারে জমা প্রদানের মাধ্যমে সরকারী অর্থ অপচয় ও আর্থিক ক্ষতি রোধ করা হয়েছে।
মন্তব্য (০)