• সমগ্র বাংলা

প্রশাসনিক স্থবিরতায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রোগীরা, অনিয়মের পাহাড়

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন দিন দিন ভেঙে পড়ছে চিকিৎসা সেবা। জেলা ও আশেপাশের অঞ্চলের প্রধান এ চিকিৎসা কেন্দ্রটি বর্তমানে একপ্রকার অভিভাবকহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। 

রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না, উল্টো ভোগান্তি ও অনিয়মের শিকার হতে হচ্ছে পদে পদে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগে একশ্রেণীর চিকিৎসক কর্মস্থলে সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকছেন না। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরকারি হাসপাতালে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত চেম্বার ও সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বেশি সময় দিচ্ছেন। এমনকি জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীদেরও নানা কৌশলে হাসপাতালের সামনের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে স্থানান্তরে বাধ্য করা হয়। এসব বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে সম্প্রতি একাধিক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের ঠিক সামনেই গড়ে ওঠা প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি বেসরকারি ক্লিনিকের সাথে হাসপাতালটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসকদের একটি অংশের অসাধু সিন্ডিকেট রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়েও চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ঢোকার প্রধান পথ থেকে শুরু করে ভেতরের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্স। ফলে পুরো হাসপাতাল প্রাঙ্গণটিকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চেয়ে 'অ্যাম্বুলেন্সের স্ট্যান্ড' বলেই মনে হয়। এর পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা জমে নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবেশপথ ও ভেতরের চত্বরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ অস্থায়ী দোকানপাট, যা উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, এখানে দোকান থেকে এবং এম্বুলেন্স থেকে চাদা আদায় করা হয় যার ভাগ রাজনৈতিক নেতা সহ  বিভিন্ন পর্যায় পর্যন্ত পৌছানো হয়। এজন্য এ বেহাল পরিবেশ এখানকার। আর এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে প্রয়োজন সকলের সদ্বিচ্ছা। 

উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে হাসপাতালের পরিবেশ ও অবৈধ দখল প্রসঙ্গে উপ-পরিচালক ডা. মানস কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, “হাসপাতালের ভেতরের বিশৃঙ্খলা, যত্রতত্র অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং এবং আশেপাশের অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভায় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, যেকোনো সময় জেলা প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

অন্যদিকে হাসপাতালের সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মফিউজ্জামান চৌধুরী সোহান জানান, হাসপাতাল পরিচালনায় যাবতীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের এখতিয়ার মূলত পরিচালকের ওপরই ন্যস্ত।

এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের অচলাবস্থা নিরসন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান ফিরিয়ে আনতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি ও পরাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের নাগরিকেরা। তারা মনে করেন ফরিদপুরে একমাত্র শামা ওবায়েদ ই পারেন তার দুরদর্শিতার আলোকে এ সমস্যা সমাধান করতে। 

মন্তব্য (০)





image

কালিয়ায় অটোভ্যান উল্টে চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু, সালামা...

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায়...

image

ব্যক্তি অর্থায়নে দক্ষিণ বিলডগা খালের উপর কাঠের সেতু নির্মাণ

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: কৃষক, শিক্ষা...

image

সোনারগায়ে উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগা উপজেলার সাদীপুর ই...

image

পাবনার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব নিলেন আবু আশ্রাফ

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনা জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে...

image

ঝিনাইদহে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সাথে রাশেদ খানে...

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহে স্থান...

  • company_logo