ছবিঃ সিএনআই
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত একটি গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গরু জবাই ও মাংস কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত প্রতিষেধক গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, কয়েক দিন আগে সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের বড় পয়লা গ্রামের বাসিন্দা রমজান ব্যাপারীর (৬০) একটি গরুকে পাগলা কুকুর কামড় দেয়। পরে গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়। গত ৭ জুন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. খোকন হোসেন গরুটি পরিদর্শন করে এটিকে জলাতঙ্কে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করেন এবং গরুটি জবাই না করা ও মাংস বিক্রি বা খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সতর্কতা উপেক্ষা করে সোমবার রমজান ব্যাপারী গরুটি ৩১ হাজার টাকায় স্থানীয় কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেন। পরে তার বাড়িতেই গরুটি জবাই করে মাংস ভাগ করে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার সন্ধ্যার পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে মসজিদের মাইকে মাইকিং করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
গরুর মালিক রমজান ব্যাপারী বলেন, গরুটি অসুস্থ ছিল, তাই কম দামে বিক্রি করেছি। গ্রামের লোকজন গরুটি কিনে আমার বাড়িতে জবাই করে মাংস ভাগ করে নিয়েছে। আমরা বাড়িতে কোনো মাংস রাখিনি।
ভেটেরিনারি সার্জনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন গরুটি বিক্রি করা হয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ডাক্তার বলেছেন গরুর জলাতঙ্ক হয়েছে, কিন্তু আমি মনে করেছি গরুকে তো কুকুর কামড় দেয়নি, তাই রোগ হয়নি।
গরুটি কিনে জবাই ও মাংস ভাগ করে নেওয়া ব্যক্তিদের একজন সাদেক আলী (৬০) বলেন, আমরা ৩১ হাজার টাকায় গরুটি কিনেছিলাম। পরে জবাই করে ৩ হাজার ১৬০ টাকা করে ভাগ দিয়ে প্রায় ১১ কেজি করে মাংস পেয়েছি। গরুটি জবাই করতে নিষেধ করা হয়েছিল এ কথা মালিক আমাদের জানাননি। এখন শুনছি টিকা নিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে খুবই চিন্তিত।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. খোকন হোসেন বলেন, গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল। আমি নিজে গিয়ে মালিককে কোনো অবস্থাতেই গরুটি জবাই না করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি, গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে।
জলাতঙ্কে আক্রান্ত গরু জবাই ও মাংস কাটার কাজে সরাসরি যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে রান্না করা মাংস যারা খেয়েছেন, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তারপরও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্কতামূলকভাবে প্রতিষেধক
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, গরুর মালিককে ভেটেরিনারি সার্জন গরু জবাই ও মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করার পরেও তিনি এ কাজটি করেছেন, জবাইয়ের সাথে জড়িতদের ভ্যাকসিন গ্রহনের পরামর্শ দেওয়া জন্য এবং গরুর মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভেটেরিনারি সার্জনকে বলা হয়েছে।
পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নট...
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মহে...
নিউজ ডেস্ক : বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, নির্বাচনের আগে জা...
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ...
গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে গ্রাম আদালত সম্পর্কে...

মন্তব্য (০)