• লিড নিউজ
  • জাতীয়

ঈদে ফাঁকা সড়কে দুর্ঘটনা-প্রাণহানি; বেশিরভাগই মোটরসাইকেল আরোহী

  • Lead News
  • জাতীয়

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্কঃ ঈদের ছুটিতে রাজধানীর ফাঁকা সড়কে বাড়ে দুর্ঘটনা-প্রাণহানি, যার বেশিরভাগই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে বেপরোয়া গতি, অদক্ষতা, অতিরিক্ত আরোহী নিয়ে প্রতিযোগিতা বা হাইওয়েতে ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ- এ সবই দুর্ঘটনার মূল কারণ। নিটোরের তথ্যমতে, শুধু ঈদের দিনই আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন ১৬২ জন। এ পর্যন্ত ভর্তি দুই শতাধিক মানুষ। যাদের অনেকেরই অবস্থা গুরুতর।

‎কিশোর আবু হোসাইন, ঈদ জামাতের পরই বাইক নিয়ে বের হন, সঙ্গে ছিল দুই বন্ধু। কিছুদূর গেলে দ্রুতগতির পিকআপের ধাক্কায় ছিটকে পরে গুরুতর আহত হন তিনজনই।

‎চিকিৎসকরা বলছেন, বাইক দুর্ঘটনায় আবু হোসাইনের পায়ের শিরা কেটে রক্তের প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে, ডান পা আর আগের মতো স্বাভাবিক হবে না তার।

‎আবু হোসাইনের মা বলেন ‘ঈদ হওয়ার কোনো পরিস্থিতি আর থাকে আমাদের, ঈদ কীভাবে হবে। নামাজ পড়ে ছেলে বাড়ি ঢুকেছে। কিন্তু বাড়ি থেকে কখন বের হয়েছে তাও আমি জানি না।’

‎অসংখ্য রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন, অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতাল শয্যায় রোগীদের আর্তচিৎকারে ফুটে ওঠে ‘সড়ক ও মহাসড়কের মরণফাঁদ’—এর বাস্তব চিত্র।

‎স্বজনদের দাবি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগে গতির নেশায় মেতে ওঠে অবাধ্য সন্তান। যার করুণ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে তাদের।

‎আহত এক কিশোরের বাবা বলেন, ‘ঈদের দিন বাসায় না বলেই বের হয়েছে। বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটা মোটরসাইকেল আসলে, সেটার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ হয়।’

‎রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য থেকে দেখা যায়, ২০২২ সালে ঈদের ১৬৪টি বাইক দুর্ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত, ২০২৩ সালে ১৬৫ দুর্ঘটনায় নিহত ১৬৭ আর ২০২৪ সালে শীর্ষে মোটরসাইকেল এবং ২০২৫ সালে সংখ্যা গিয়ে ঠেকে ১৩৫ জনে।

‎রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, ‘ফাঁকা রাস্তা পেয়ে আরও দ্রুত চলছে, সুতরাং এগুলোই কন্ট্রিবিউট করছে এই দুর্ঘটনায়। এটার সাময়িক কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়, কিছুটা চেষ্টা করা হয়, কিছুটা সিকিউরিটি বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আলটিমেটলি সমস্যাটা স্থায়ীভাবে সমাধান হয় না।’

‎নিটোরের চিকিৎসক জানান, ঈদের আগের রাত থেকে শুরু করে পরদিন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তির বেশিরভাগই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার।

‎নিটোরের সহকারী অধ্যাপক ডা. জীবনানন্দ হালদার বলেন, ‘নামাজ পড়ার পর পর্যন্ত একটু কম ছিল। বিকেলের দিকে অনেক রোগী এসেছে। সবমিলিয়ে আমরা একটা হ্রাসের মধ্যে ছিলাম।’

‎বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুল নেওয়াজ জানান, সম্মিলিত প্রচেষ্টা না হলে সড়ক পথে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।

‎সাইফুল নেওয়াজ বলেন, ‘দূরের যাত্রায় অন্তত একজনের বেশি সে নিতে পারবে না। অবশ্যই মানসম্মত হেলমেট থাকতে হবে। কিছু কিছু ব্যাপার যদি ইমপ্লিমেন্ট করা যায়, তাহলে দেখা যাবে আগামী ঈদে মানুষ মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে ডিমোটিভেট হবে। ডিমোটিভেট না করে আমরা যদি রাস্তায় ইমপ্লিমেন্ট করতে যাই, এটা খুবই ডিফিকাল্ট, এটা হয় না। পুলিশ সেটা পারেও না।’

‎দেশে মোট মোটরযানের বড় অংশই মোটরসাইকেল। চালকদের বড় অংশ কিশোর ও যুবক।

মন্তব্য (০)





  • company_logo