• সমগ্র বাংলা

শ্রীপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতালে ব্যাপক ভাংচুর

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের । প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে স্বজনদের হামলায় ব্যাপক ভাংচুর । এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পলাতক রয়েছে। 

আজ সোমবার (৯ মার্চ) সকালে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা এলাকার লাইফ কেয়ার হসপিটাল এ ঘটনা ঘটে। এর আগেও এই হাসপাতালের নামে একাধিক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। 

নিহত মোছাঃ রুমা আক্তার (২৬) পৌরসভার উজিলাব গ্রামের মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী।

নিহতের স্বামী মানিক মিয়া বলেন, গত শনিবার দুপুরে আমার গর্ভবতী স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হলে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার লাইফ কেয়ার হসপিটালে নিয়ে ভর্তি করি। রবিবার দুপুরে হাসপাতালের চিকিৎসক জানান সিজারিয়ান অপারেশন লাগবে। পরবর্তীতে সিজারিয়ান অপারেশনের অনুমতি দেওয়া হয়। দুপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান মা ও নবজাতক শিশু সুস্থ রয়েছে। আমরা তাদের দেখতে চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের দেখতে দেয় নাই। তাঁরা শুধু বলে দুজন সুস্থ রয়েছে। সময় অতিবাহিত হওয়ার পরপরই আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা কয়েকজন জোরপূর্বক অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করি দেখি স্ত্রী রুমা আর নেই। সে মারা গেছে। তবুও হাসপাতালের চিকিৎসক জানান সে সুস্থ রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। সন্ধ্যার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান স্ত্রী রুমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিতে হবে। কিন্তু হাসপাতালেই আমার স্ত্রী রুমা মারা যায়। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই এম্বুলেন্স এনে মৃতদেহ এম্বুলেন্সে করে উত্তরার হাই কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে রওনা হয়। পথিমধ্যে আমরা বহুবার বলছি আমার স্ত্রী মারা গেছে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনকিছুই মানতে চায় না।তারা তাদের দোষ ঢাকতে মরদেহ অন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাইকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই একজন চিকিৎসক নিচে এসে জানান অনেক আগেই তিনি মারা গেছে। এর পরপরই কয়েকজন ঢাকা থেকে পালিয়ে আসে। 

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে মরদেহ নিয়ে পূনরায় লাইফ কেয়ার হসপিটালে নিয়ে আসি। দীর্ঘ তিনঘন্টা অপারেশন থিয়েটারে রাখে। ভুল চিকিৎসায় আমার স্ত্রীকে এরা মেরে ফেলছে। 

নবজাতকের ফুফু শিলা আক্তার বলেন, আমার ভাবিকে ওরা ভুল চিকিৎসা করে মেরে ফেলেছে। মারা যাওয়ার পরেও কয়েক ঘন্টা গোপন রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমরা বার বার তাদের বিষয়ে জানতে চাইলেও তারা সবসময় এড়িয়ে গেছে। নবজাতক শিশুর মাথাও কয়েকটি আঘাত রয়েছে । 

এবিষয়ে বক্তব্য জানতে লাইফ কেয়ার হসপিটালের ব্যবস্থাপক আজাহারুল ইসলাম পারভেজ মোবাইল ফোনে জানান, আশুলিয়া নারী ও শিশু কেন্দ্রে কর্মরত গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাঃ রাজশ্রী ভৌমিক ও অ্যানেসথেশিয়া ডাঃ রেজোয়ানা সিজারিয়ান অপারেশনে অংশ নেন। তারা অপারেশন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে প্রসূতির মৃত্যু হলে শতাধিক লোকজন এসে হাসপাতাল ভাংচুর চালায়। হাসপাতালের একটি চেয়ারও অবশিষ্ট নেই। তিনি আরও জানান, ভয়ে সবাই হাসপাতালে ছেড়ে বেড়িয়ে আসে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শফিকুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নবজাতক শিশুর মাথায় কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রোগীর স্বজনরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সোর আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, এই হাসপাতালের অনেক অনিয়ম অভিযোগ রয়েছে। এই হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের যে ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন ছিলো সেটি হাসপাতালে ছিলো না। যার কারণে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, নবজাতক শিশুটির অবস্থাও খুবই নাজুক। নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতাল থেকে সকল রোগী অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে হাসপাতালটি সিলগালা করা হয়েছে। 

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারসহ তিনটি তলার প্রতিটি রুমের সকল যন্ত্রপাতি ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে । বেশ কয়েকটি কম্পিউটার ভাংচুর করেছে। হাসপাতালের কোনকিছু অবশিষ্ট নেই। সবকিছু ভাংচুর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত উত্তেজনা চলছে। রোগীর স্বজনদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য (০)





  • company_logo