দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, দিনাজপুরে কোন চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবে না।
আজ শনিবার জেল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে দিনাজপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকল্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণগান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে বিএনপি ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশিত উন্নয়নের রোডম্যাপের আলোকে দিনাজপুর জেলার জন্য বাস্তবসম্মত ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৮টি অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এসব পরিকল্পনার মধ্যে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও আবাসনখাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। ৩১ দফার মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই প্রতিটি পরিবারের নারীর নামে একটি "ফ্যামিলি কার্ড" প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা, ভুর্তুকি, সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় সেবাসমূহ সরাসরি নারীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
দিনাজপুরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল বিগত বিএনপি সরকারের আমলে প্রয়াত মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের উদ্যোগে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সেই সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে এবং দিনাজপুরবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা অতীতের দিকে না তাকিয়ে আগামীর দিনাজপুর গড়তে চাই। উন্নয়ন বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সবার সহযোগিতায় পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে চাই।
দিনাজপুরের প্রধান সমস্যার মধ্যে রয়েছে ভারী শিল্পকারখানার অভাব, অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, ২/৩ লেনবিশিষ্ট সড়কের অভাব এবং সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদকের বিস্তার যা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বেকারত্ব, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারায় হাসকিং মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া ও বড়মাঠ সংক্রান্ত চলমান সমস্যা।
এসব সমস্যার সমাধানে আমরা দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে এবং সরকারি-বেসরকারি সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে। প্রশাসনের সকল স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা হবে।
দিনাজপুরকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বপ্রথম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে। দিনাজপুরে কোনো চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবেনা। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা কররন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্হিত ছিলেননবিএনপির জেলা কমিটির নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক, খালেকুজ্জামান বাবুসহ অন্যান্যরা।
মন্তব্য (০)