• লিড নিউজ
  • জাতীয়

‎বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জার্মানি : উপমন্ত্রী ‎

  • Lead News
  • জাতীয়

ফাইল ছবি

‎নিউজ ডেস্কঃ জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী ড. বারবেল কোফলার বলেছেন, জার্মানি বাংলাদেশের সঙ্গে নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেন।
‎
‎তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পাশে থাকতে এসেছি।’
‎
‎মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাসে জার্মান পুনঃএকত্রীকরণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
‎
‎পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎজ ও ইভানা লোৎজ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎বাংলাদেশ ও জার্মানির জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ববর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎কোফলার বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন এগিয়ে নিতে জার্মানি বাংলাদেশের সরকার ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে চায়।
‎
‎দুই দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জার্মানির উন্নয়ন সহযোগিতা বাংলাদেশের সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে।
‎
‎তিনি বলেন, প্রতিকূল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও দুই দেশের অংশীদারিত্বের সাফল্যের উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।
‎
‎‘বাংলাদেশের জনগণ প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছেন,’ বলেন তিনি।
‎
‎জার্মান উপমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘গ্লোবাল শিল্ড এগেইনস্ট ক্লাইমেট রিস্কস’ উদ্যোগ, জলবায়ু অভিযোজন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতাকে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
‎
‎তিনি জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তার মতে, এ রূপান্তর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট বিঘ্নের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
‎
‎কোফলার বলেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য এবং খাদ্যনিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতি টেকসই উন্নয়নের পথ অনুসরণে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
‎
‎তিনি স্বীকার করেন, খাদ্য ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম বাংলাদেশের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। জার্মানিও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‎
‎‘আমি জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করে এখানে এসেছি শুধু এসব চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করতে নয়, বরং কীভাবে আমরা একসঙ্গে এগুলো মোকাবিলা করতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা করতে,’ বলেন কোফলার।
‎
‎তিনি বলেন, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা অপরিহার্য।
‎
‎‘আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই কেবল বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে পারব,’ বলেন তিনি।
‎
‎বাংলাদেশের আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) শ্রেণি থেকে উত্তরণে অভিনন্দন জানিয়ে কোফলার বলেন, এ প্রক্রিয়া টেকসই করতে অর্থনৈতিক, আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
‎
‎তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার সঙ্গে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
‎
‎জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটালাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য উন্নত ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
‎
‎বাংলাদেশের প্রতি জার্মানির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে কোফলার বলেন, বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে পাশে থাকা জার্মানি ও ইউরোপের দায়িত্ব।
‎
‎অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অংশীদাররা একসঙ্গে কাজ করলে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
‎
‎বাংলাদেশে তৃতীয়বারের মতো সফররত কোফলার জানান, তিন দিনের সফরে তিনি নাগরিক সমাজ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, সরকারি মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
‎
‎এসব মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ, দেশটির বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণের আকাক্সক্ষা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‎
‎১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ স্মরণে পালিত জার্মান ঐক্য দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে কোফলার বলেন, এ দিবস শান্তি, সংহতি ও বিভাজন অতিক্রমের প্রতীক। বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এসব মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

মন্তব্য (০)





image

‎ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বার্তা

১

‎নিউজ ডেস্কঃ মার্কিন বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদ...

image

‎অটোরিকশার বিরুদ্ধে উদ্যোগ নিলেও নাগরিক সমাজ থেকে প্রতিবা...

২

নিউজ ডেস্কঃ অটোরিকশার বিরুদ্ধে উদ্যোগ নিলেও নাগরিক সমাজ থেকে...

image

রাজধানীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান

৩

নিউজ ডেস্কঃ রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান ...

image

‎সরকার অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্ব...

৪

নিউজ ডেস্কঃ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ...

image

‎ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে...

৫

‎নিউজ ডেস্কঃ শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচ...

  • company_logo