• আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ২ ‎

  • আন্তর্জাতিক

ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় একটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ দুজন নিহত হয়েছেন।  স্থানীয় সময় শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে রিচফিল্ড শহরের কাছে থ্রি ক্রিকস রিজার্ভার এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এটি ভয়াবহ উইডমাউথ-২ দাবানলের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের কাছাকাছি এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল।

‎দুর্ঘটনাকবলিত সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’ হেলিকপ্টারটি যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট সার্ভিসের চুক্তির আওতায় হেলিকপ্টার ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস পরিচালনা করছিল।

‎শনিবার (৮ আগস্ট) ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার (এনআইএফসি) দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, দুর্ঘটনায় দুই ক্রু সদস্যই গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

‎দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ভয়াবহ আগুনের কারণে উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছে এনআইএফসি। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার বেশ কয়েকটি সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

‎দাবানল নিয়ন্ত্রণ অভিযানের উপ-প্রধান টাইলার হেক্ট জানান, দুর্ঘটনার পর কর্মীরা কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ রেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও দলকে পুনর্গঠিত করেন। পরে আবার আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু হয়।

‎তিনি বলেন, ‘এই দুর্ঘটনা আমাদের কাজের পদ্ধতি বদলে দেবে না। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাব এবং মাটিতে থাকা দমকলকর্মীদের সহায়তায় বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করব।’

‎উটাহর গভর্নর স্পেন্সার কক্স দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি নিহত দুই কর্মীর জন্য সবাইকে প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।

‎দাবানলে পুড়েছে ৪৫ হাজার হেক্টর

‎উইডমাউথ-২ দাবানলটি গত ২৭ জুলাই ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টে বজ্রপাত থেকে শুরু হয়। এরপর আগুনে ১ লাখ ১১ হাজার একরেরও বেশি এলাকা পুড়ে গেছে, যা প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টরের সমান।

‎শনিবার পর্যন্ত আগুনের মাত্র ২৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুনের তীব্রতা এখনও অনেক বেশি। গাছের চূড়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়া এবং বাতাসে আগুনের ফুলকি ও জ্বলন্ত বস্তু দূরে গিয়ে পড়ার কারণে আশপাশের জনবসতিগুলো এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

‎চলতি গ্রীষ্মে উটাহতে এটি দাবানল মোকাবিলায় দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এর আগে জুনে কলোরাডো সীমান্তের কাছে নোলস ও গোর দাবানল নিয়ন্ত্রণে গিয়ে তিন দমকলকর্মী নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত আরেক দমকলকর্মী পরে মারা যান।

মন্তব্য (০)





  • company_logo